সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ জুন, ২০১৬ ১৯:৫৭

এবার শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে

মহাশ্মশান কমিটির সেক্রেটারিকে প্রাণনাশের হুমকি

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আজিজুল হকের বিরুদ্ধে শ্মশানের প্রায় ৪ শতক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ করলে মহাশ্মশান কমিটির সেক্রেটারিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। প্রয়োজনে শ্মশানে লাশ পোড়ানো বন্ধে পাল্টা কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও তাদের শাসানো হচ্ছে। 
  
দখলের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আগামী শুক্রবার এলাকায় সভা ও শনিবার শ্মশানের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। 
  
বুধবার বিকালে ফোনে শ্মশানের জায়গা দখলের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আজিজুল হক সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি সাংবাদিকদের সাংবাদিকতা ছেড়ে শ্মশানের পুরোহিতের দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন। 
  
তিনি বলেন, ওটা খাস জমি। ওসমান মোল্লার লিজ নেয়া। তিনি (আওয়ামী লীগ সভাপতি) ওই জায়গা দখলের সঙ্গে জড়িত নেই। তিনি কাউকে হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগ দৃঢতার সঙ্গে অস্বীকার করেন। 
  
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘বানাইল বারোয়ারী কেন্দ্রীয় শিবমন্দির ও শ্মশান’ সংরক্ষণ কমিটির সেক্রেটারি দুলাল চন্দ্র সরকার জানান, করতোয়া নদীর পাশে ২৭ শতক জমিতে তাদের প্রাচীন মহাশ্মশান। দীর্ঘদিন ধরে এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃতদের সৎকার করা হচ্ছে। শ্মশানসংক্রান্ত সব কাগজপত্র তাদের আছে। জেলা প্রশাসনেরও কাগজপত্র রয়েছে। জনৈক ওসমান মোল্লা কিছু জমির মালিকানা দাবি করলেও তিনি প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। 
  
সেক্রেটারি অভিযোগ করেন, প্রায় দু’মাস ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হকের নেতৃত্বে সড়কের পাশে শ্মশানের প্রায় ৪ শতক জমি দখল শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে মাটি ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। ওই স্থানে থাকা একটি প্রাচীন বটগাছ সম্প্রতি ঝড়ে পড়ে গেলে সেটিও আওয়ামী লীগ সভাপতি নিয়ে যান। 
  
দুলাল আরও অভিযোগ করেন, শ্মশানের জায়গা রক্ষায় মানববন্ধন কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা আওয়ামী লীগ সভাপতি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। ২-৩ দিন আগে তাকে হুমকি-ধমকি দেন। প্রয়োজনে শ্মশানে লাশ পোড়া বন্ধে পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন বলেও হুমকি দেন। এতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আতংকিত হয়ে পড়েছেন। 
  
তিনি বলেন, প্রভাবশালী দখলবাজদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস করেন না। শ্মশানের জায়গা দখল বন্ধে আগামী ৩ জুন শুক্রবার গ্রামে সভা ডাকা হয়েছে। পরদিন শ্মশানের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
  
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান জানান, বানাইল মহাশ্মশানের জায়গা দখলের ব্যাপারে তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুক্তভোগী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের মহাশ্মশানের জায়গা দখল বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত