০৩ জুন, ২০১৬ ১০:৪৬
রাজশাহীর আম- সারাদেশে এককথায় বিক্রি হয়, মানুষ কেনেও দেদার। কিন্তু রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষিদের আশা ছিল, তাদের উৎপাদিত আম বিদেশ পাঠানোর। এবার তাদের সেই আশা পূর্ণ হয়েছে। রাজশাহীর আম যাচ্ছে ইউরোপের দেশে। ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আমে কোনোরকম কেমিক্যাল ব্যবহার হয়নি। চাষিরা প্রতি কেজি আমের দাম পাচ্ছেন ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। প্রায় দ্বিগুণ বেশি দাম পেয়ে তারাও খুশি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মঞ্জুরুল হক জানান, এবারই প্রথম সংযোগ চাষির মাধ্যমে আম উৎপাদন করা হয়েছে। আগে বিক্ষিপ্তভাবে বিদেশে আম গেলেও এবারই প্রথম রফতানির শর্ত পূরণ করে বিদেশে আম পাঠানো হচ্ছে। ৩৩ জন সংযোগ চাষিকে ঢাকায় প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে রফতানির উপযোগী করে আম উৎপাদন করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও ফল গবেষণাগার মনিটর করে রোগ, পোকামাকড়ে আক্রান্ত যেন না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রেখেছে। তিনি জানান, এসব আমের গুটি ছোট থাকা অবস্থায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। তবে পাকার এক মাস আগে থেকে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ রেখে ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম সুরক্ষিত করা হয়। এতে আমে কোনো পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারেনি। বর্তমানে হিমসাগর বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এরপরই পাঠানো হবে ল্যাংড়া, আম্রপালি, লকনা, ফজলিসহ অন্যান্য জাতের আম।
তিনি আরও জানান, রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন ও হটেক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল মার্ট এসব আম কিনে নিয়ে বাজারজাত করছে। এরই মধ্যে পুঠিয়া থেকে ৫০০ কেজি, বাঘা থেকে তিন টন ও পবা থেকে দুই টন আম ইউরোপের কয়েকটি দেশে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও আম পাঠানো হবে।
পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জুর রহমান জানান, পুঠিয়া থেকে ২২ হাজার ৫০০টি আম ইউরোপে পাঠানো হচ্ছে। এই আমগুলো শুরু থেকেই ব্যাগিং করা হয়েছিল। এ কারণে পরিপক্ক হওয়ার পর এতে কোনো কীটনাশক ব্যবহার হয়নি। প্রতি কেজি হিমসাগর আম কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ৯০ টাকায়। আমগুলো দুই কেজি করে প্যাকেট করে বিদেশ পাঠানো হচ্ছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, বাঘা থেকে ২০ জন আমচাষিকে ঢাকায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনায় এসব আম উৎপাদন করা হয়। মাছি-পোকার আক্রমণ ঠেকাতে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাগিং করা ছাড়াও আম দূষণমুক্ত রাখতে বাগানের মাটি এবং সেচের পানিও পরীক্ষা করা হয়। 'হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট' পদ্ধতিতে শোধন করে হাতে গ্গ্নাভস পরে এসব আম প্যাকিং করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যৌথ সনদে এসব আম পাঠানো হচ্ছে, যেন রাস্তায় কোনো ঝামেলা না হয়। বাঘা থেকে এবার ১৩০ টন হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম ইউরোপে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইউরোপে বাংলাদেশের আমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আগামীতে এই চাহিদা আরও বাড়বে। সে অনুযায়ী চাষির সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
পুঠিয়া উপজেলার আমচাষি নওশাদ আলী জানান, তিনি ৮৫ টাকা করে হিমসাগর আমের দাম পেয়েছেন। এতে তিনি খুশি। তবে এভাবে আম চাষে খরচ বেশি। আমের ব্যাগের দামও বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'প্রতিটি ব্যাগের দাম নেওয়া হচ্ছে চার টাকা করে। ব্যাগের দাম কমানো হলে চাষিরা উৎসাহ পাবেন। চাষিরাও লাভবান হবেন।'
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলিম উদ্দিন বলেন, 'বর্তমানে যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে তা চীন থেকে আমদানি করা। তাই দাম বেশি পড়ছে। এই ব্যাগ বাংলাদেশে তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগির উৎপাদন শুরু হবে। আগামী মৌসুম থেকেই এ ব্যাগের দাম কমে যাবে।'
খবর: সমকাল।
আপনার মন্তব্য