০৪ জুন, ২০১৬ ১৩:৪৫
নিকষ কালো পাথরের মাঝে সাদা অক্ষরে লেখা পঙ্ক্তি। গোটা গোটা অক্ষরে লেখা 'যতকাল রবে পদ্মা, মেঘনা/ গৌরী, যমুনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার/ শেখ মুজিবুর রহমান'। গত দুই দশক ধরে এভাবেই উদ্ধৃতিটি লেখা আছে ম্যুরালের গায়ে।
কিন্তু উদ্ধৃতিটি যে ভুল, তা এতো দিনেও কারো নজরে পড়েনি। অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতাটিতে লেখা হয়েছিল 'যতকাল রবে পদ্মা যমুনা/ গৌরী মেঘনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার/ শেখ মুজিবুর রহমান'। ম্যুরালের গায়ে উদৃব্দত কবিতায় 'যমুনা'র জায়গায় 'মেঘনা' আর 'মেঘনা'র জায়গায় 'যমুনা' লেখা রয়েছে। সে সঙ্গে ওই কবিতার প্রথম চার লাইনে কোনো কমার ব্যবহার না থাকলেও ম্যুরালে কমা ব্যবহার করা হয়েছে।
অবাক করা বিষয়, বর্তমানে মূল কবিতাটির বদলে প্রায় সর্বত্র ভুল উদ্ধৃতিটিই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে অন্নদাশঙ্কর রায়ের তিনটি বই বিশ্লেষণ করে খুব সহজেই ভুলটি ধরা পড়েছে। সে সঙ্গে কবিতাটি যে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু কবি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত, সেটিরও উল্লেখ নেই ম্যুরালের গায়ে।
ভুলের বিষয়টি জানিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে দ্রুত ভুল সংশোধন করার প্রতিশ্রুতি দিলেন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর ও সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান।
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ম্যুরালের গায়ে কবিতা ভুলভাবে উদ্ধৃত হওয়ার বিষয়ে সেন্টার ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড রিসার্চের (সিবিজিআর) চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জালাল বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন। অন্নদাশঙ্কর রায়ও পণ্ডিত মানুষ। একজন পণ্ডিত মানুষ যখন একজন অসাধারণ মানুষকে নিয়ে কবিতা লেখেন, সেটা বুঝেশুনে তার পর লেখেন। কিন্তু কেউ এসে চট করে কবিতা পাল্টে দেবেন, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি আশা করব, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভুল সংশোধন করা হবে। না হলে নতুন প্রজন্ম আরেকটি ভুল তথ্য জেনে বড় হবে।
আপনার মন্তব্য