০৯ জুন, ২০১৬ ২২:১৮
‘প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত’ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জানিয়েছে, বিজিপ্রেসের এক কর্মচারীকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন তারা।
ওই কর্মচারীর মাধ্যমে পাওয়া প্রশ্ন তারা ফেইসবুক, হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন। কখনও কখনও ভুয়া প্রশ্নও পরীক্ষার্থীদের হাতে গছিয়ে দিতেন তারা।
বুধবার গভীর রাতে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে এই নয়জনকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে জুয়েল, মো. রুবেল বেপারী, মো. আবদুস সাত্তার, মো. মেজবাহ আহমেদ, মো. কাউসার হোসেন, মো. আল আমিন, মো. ইকরাম হোসাইন, মো. হৃদয় হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর।
এদের সঙ্গী বিজিপ্রেসের ওই কর্মচারী ও নরসিংদীর এক স্কুলশিক্ষককে গোয়েন্দারা আটকের চেষ্টা করছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
নয়জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে সকালে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “চক্রটি বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নফাঁস করে তা টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।”
পরে সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, এই চক্রটি দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করত। ইকরাম হোসেন উভয় গ্রুপের সঙ্গে ছিল। ফেইসবুকে তার ‘আহমেদ নিলয়’ নামে আইডি রয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের তদন্তে তার নাম বেরিয়ে আসার পর এই চক্রের অন্যদের সম্পর্কে জানা যায় বলে জানান তিনি।
তাদের কাজের বিবরণ দিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, “এদের সঙ্গে বিজি প্রেসের এক অসাধু কর্মচারী জড়িত। প্রশ্নপত্র যখন ছাপা হয় তখন সে প্রশ্ন মুখস্ত করে জুয়েল নামের একজনকে লিখে দেয়। জুয়েল লিখে দেয় সাত্তারকে। সাত্তার দেয় হৃদয়কে। আর হৃদয় দেয় আহমেদ নিলয়ের কাছে।
“নিলয় ফেইসবুকে তার বিপণন করে ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা বুঝে নেয়।”
তাদের দেওয়া প্রশ্ন শতভাগ না মিললেও অনেক প্রশ্নই অনেক সময় মিলে যায় বলে জানান তিনি।
ফেইসবুক ছাড়াও হোয়াটস অ্যাপেও এভাবে প্রশ্ন বিক্রি হত জানিয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল বলেন, “হোয়াটস অ্যাপে তাদের আট জনের একটি গ্রুপ আছে। এই গ্রুপে তারা আসল প্রশ্নপত্র নয় এমন প্রশ্নপত্র শেয়ার করে। পরে দরদাম ঠিক হয়ে বিকাশে টাকা এলে আল আমিন তা ক্রেতাকে দিত।”
সম্প্রতি শেষ হওয়া উচ্চ মাধ্যমিকের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলাকালেও তারা এ কাজ করেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা এই ধরনের তথ্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে দিলে তারা অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।
তাদের কাছ থেকে ২০১৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিকের রসায়ন (দ্বিতীয় পত্র), হিসাববিজ্ঞান (প্রথম পত্র), পদার্থ বিজ্ঞান (সৃজনশীল), জীববিজ্ঞান (দ্বিতীয় পত্র) ইত্যাদি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র এবং ১০টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য