নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ মার্চ, ২০১৫ ০০:৪৯

অজয় রায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী

লেখক, গবেষক, ব্লগার ড. অভিজিৎ রায়ের বাবা শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বুয়েটের শিক্ষক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও তাঁর স্ত্রী ফারহানা মান্নান।

দেখা করার পর ফেসবুকে পোস্ট করা এক স্ট্যাটাস ও দুই ছবি আপ্লোড করে ফারহানা মান্নান তাদের সাক্ষাতের বিষয়টি পরিষ্কার করেন। এরপর ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীও একইভাবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সিলেটটুডে২৪-র পাঠকদের উদ্দেশে ফারহানা মান্নানের স্ট্যাটাসটি দেওয়া হলো:


অভিজিত দাদা চলে যাবার পর একটা বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছিলাম। এখনও রাতে ঘুম ভেংগে যায় হঠাত। যাক আজ একজন পুত্রহারা পিতার সাথে দেখা হল। অজয় স্যার এর সাথে মন খুলে কথা হল। স্যার এর প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার জানা নাই। স্যার ভালো থাকুন। শোক কাটিয়ে উঠুন। আর আমি এবং ড: ফারসীম আতংক থেকে বেরিয়ে আসি। আর বন্যা আপা সুস্থ হয়ে উঠুন। ছবিটার দিকে তাকালেই খারাপ লাগছে। আসলে এমন পরিস্থিতিতে বলার ভাষা থাকে না। তবু কিছুটা ধাতস্থ হয়েছি আজ স্যারকে পেয়ে।
দাদা আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। আমি এবং ড: ফারসীম আপনাকে মনে রাখব বাকিটা জীবন। আজ আপনি বেচে থাকলে আমাদের এমন দিনে পাশে দাড়াতেন নিশ্চই। যেখানেই থাকুন প্রার্থনা করবেন সকলের সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান যেন আমি ও ড: ফারসীম করতে পারি। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের শক্তি দিন।



উল্লেখ্য, জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ২৬ ফেব্রুয়ারি খুন হন অভিজিৎ রায় এবং গুরুতর আহত হন তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। খুন হওয়ার আগে অভিজিৎ রায় ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর আয়োজনে আয়োজিত এক বৈঠকে অংশ নেন।

অভিজিৎ রায়ের বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায় বিডিনিউজ২৪-র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখিত সে বৈঠক সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছিলেন সে বৈঠকে অনেক অপরিচিত লোক ছিলেন এবং আমন্ত্রিত অনেকেই অংশ নেননি।

অজয় রায়ের সাক্ষাৎকারের জবাবে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী জানান- অভিজিতের সঙ্গে কথা বলেই তিনি বইমেলার মধ্যে ওই বৈঠকটি ঠিক করেন এবং উপস্থিতদের মধ্যে অধিকাংশই অভিজিতের চেনা ছিল।

এরপর থেকে পুরো বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের বীজ দানা বাঁধে। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পর বৈঠকের আয়োজক ফারসীম মান্নানের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন অজয় রায় এবং মুক্তচিন্তা আন্দোলনের অনেকেই।

ফারসীম অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পর কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে অভিজিৎ রায়কে দেখতে যাননি, বুয়েটে লাশ নিয়ে যাওয়ার পরেও সেখানে তিনি ছিলেন না, যেখানে হত্যাকাণ্ড সংগঠনের কয়েক ঘন্টা আগেও তারা একসাথে ছিলেন।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি অজয় রায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং তিনি আশাবাদি যে এর মাধ্যমে যাবতীয় ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে। পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটাও প্রকাশ করা হলো:


আজ এক শোকতপ্ত পিতার সংস্পর্শে এলাম। নির্মূল কমিটির ‘অভিজিৎ রায় হত্যা ও চলমান সন্ত্রাস’ শীর্ষক মিটিং শেষে সরাসরি অজয় রায় স্যারের সামনে দাড়ালাম। দুবার নাম বলায় তিনি চিনতে পারলেন। হঠাৎ ফিক করে হেসে বললেন, তুমি তো বিখ্যাত লোক, কতজন তোমাকে চেনে! আমি বললাম, স্যার আমি আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি। তিনি বললেন, আমার বাসায় যাবে? বললাম, যাব স্যার। স্যারের গাড়িতে চেপে বসলাম। শেষ পর্যন্ত বুয়েট ক্লাবে গিয়েই বসলাম। ঘন্টা দেড়েকের একটু বেশি বসলেন। অনেক কিছু খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। আমিও যতটুকু জানি বললাম। অনেক ধোয়াশা দূর হলো – দেখা গেল, অনেক কিছু স্যারকে যেভাবে জানানো হয়েছে সেভাবে আসলে হয়নি; অথবা আমরা যেটা জেনেছি সেটাও স্যার বলেননি। গুজবের পাখি কোথায় যে যায়! যেমন কাওসার নামের ছেলেটি নাকি মিটিঙে এসেছিল এবং তারপর বই হারিয়ে যাওয়ার নাম করে মিটিং থেকে উঠে গিয়েছিল বলে একটা রহস্য সৃষ্টি হয়েছিল। সে ঐ মিটিঙে ছিলই না সেটা পরিষ্কার হলো, ছবিও দেখানো হলো যেখানে সব মুখই স্পষ্ট দেখাচ্ছে। বিজ্ঞান বক্তা আসিফ নাকি আমন্ত্রিতই ছিলেন না বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রকৃতই ইনভাইটেড ছিলেন, এটা স্যারকে দেখালাম। আর কারা কারা ইনভাইটেড ছিলেন, কারা কারা মিটিঙে ছিলেন ছবিতে দেখানো হলো। স্যার একটা মূল্যবান কথা বললেন, আসলে যারা কালপ্রিট তারা তো সভায় বসে নিজেদের চেহারা দেখাবে না!

যাহোক, অনেক হাল্কা লাগছে। অভিজিৎ দাদার মৃত্যুর পর শক এবং শোকের মধ্যে ছিলাম। আপা যেমন বলেছেন, আজ অভিজিৎ দাদা থাকলে নিশ্চয় অন্যূন ৩০০ শব্দের একটি স্ট্যাটাস দিতেন আমাদের জন্য। আমরা খুব ভয়ের মধ্যে ছিলাম, এখনো আছি। নানান হুমকি ছিল, এখনো আসছে। দাদার যেকোনো নির্দোষ স্ট্যাটাসে লাইক দিলেই আসত ইনবক্স। আজকের ঐ সভায় দেখলাম সবাই এই ভয়াদ্র সমাজের কথাই বললেন। আমি ঠিক জানিনা টলারেন্স এবং সৌহার্দ্য এই সমাজে আবার কবে ফিরে আসবে। আদৌ আসবে কিনা। কিন্তু মানুষ অপেক্ষা করতে পারে, আর করতে পারে আশা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত