সিলেটটুডে ডেস্ক

০৮ জুলাই, ২০১৬ ১৩:২১

পুলিশ সদস্য জহিরুলকে মসজিদের ভেতর নিয়ে কোপায় জঙ্গিরা

শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ শুরুর প্রাক্কালে সকাল পৌনে নয়টায়  মুফতি মোহাম্মদ আলী মসজিদের কোনায় একদল পুলিশ সদস্য ঈদগাহমুখী মানুষকে তল্লাশির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমন সময় পুলিশের দলটির ওপর বোমা হামলা হয়। বোমার আঘাতে আহত হয়ে পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল হক পাশের একটি মসজিদের বাথরুমে ঢুকে পড়লে সেখানেই তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা

আরও পড়ূন- শোলাকিয়ায় হামলা ‘ওস্তাদের নির্দেশে’, বলেছে আটক মাদ্রাসাছাত্র

ওই সময় ঘটনার অদূরেই দায়িত্ব পালন করছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, "ঠিক সকাল পৌনে নয়টার দিকে পুলিশের দলটির ওপর বোমা হামলা হয়। এরপর তারা চাপাতি নিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।"

বৃহস্পতিবার বিকেলে মুফতি মোহাম্মদ আলী মসজিদের সারবাঁধা চারটি বাথরুমের (ইউরিনাল) একটির ভেতরে গিয়ে ছোপ ছোপ কালচে রক্তের দাগ দেখা। গ্রিলের দরজাও ছিল রক্তাক্ত। সদ্য রং করা সাদা দেয়ালেও লেগেছে রক্তের ফিনকি।

জঙ্গিদের অতর্কিত হামলায় সাত-আটজনের পুলিশ দলটি বোমা হামলায় আহত হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে জহিরুল একটি বাথরুমে গিয়ে ঢোকেন। কিন্তু তিনি দরজাটি ভেতর থেকে বন্ধ করার আগেই এক জঙ্গি তাঁকে ধাওয়া করে সেখানে গিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সকালে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার ঈদ জামাতের প্রবেশ পথে জঙ্গি হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারান দুই পুলিশ সদস্য জহিরুল হক ও আনসারুল হক। পরে পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে এক জঙ্গি নিহত। ওই এলাকার বাসিন্দা এক গৃহিণী নিজ ঘরের ভেতরেই মিস ফায়ার হয়ে নিহত হন। এই ঘটনায় ২জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়া দিনাজপুরের এক মাদ্রাসাছাত্র পরে র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে ওস্তাদের নির্দেশে সে হামলায় অংশ নেয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত