২২ মার্চ, ২০১৭ ০১:০৭
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে বহুপ্রত্যাশিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সম্ভবত এবার হচ্ছে না। তবে ভারত এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। সুতরাং আমরা চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী।
বুধবার (২২ মার্চ) বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ মার্চ) ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি গোলটেবিল আলোচনার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে ভারতের আগের দুই প্রধানমন্ত্রী যেমন আন্তরিক ছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও তেমন আন্তরিক। তবে তাদের কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে। আমরা আশা করতে পারি, সেসব সমস্যার সমাধানের পর চুক্তিটি করতে পারবো।
এসময় ঢাকা ও দিল্লি রাজবাড়ী জেলার পাংশায় গংগা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পটি পাংশা উপজেলার হাবাসপুর থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পে ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। প্রকল্প নির্মাণে চীন ও মালয়েশিয়া আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশ আন্তঃনদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে- সে কথা স্বীকার করেন মন্ত্রী।
সঙ্গে তিনি এও বলেন যে, রক্ষণাবেক্ষণে দুর্বলতা এবং পলি জমে যাওয়ার কারণে নদীগুলো পানি ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। সরকার নদীখনন (ড্রেজিং) কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
দৈনিক ভোরের কাগজ এবং এন্ড ওয়াটার পোভার্টি, ফ্রেশ ওয়াটার অ্যাকশন নেটওয়ার্ক, সাউথ এশিয়া বাংলাদেশ, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেল্থ এবং ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন কলাবোরেশন কাউন্সিল যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
এতে আরো বক্তব্য দেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জাফর আহমেদ খান। কি-নোট উপস্থাপন করেন বুয়েটের শিক্ষক মুজিবুর রহমান।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ৭ এপ্রিল তিন দিনের সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে বিশেষ অগ্রাধিকার হলো ‘কানেক্টিভিটি’। সফরে রেল, সড়ক সংযোগ বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ আনার মতো বিষয়ে আরো অগ্রগতি হতে পারে।
এ সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই নেতার মধ্যকার শীর্ষ বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে তিস্তাসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানিবণ্টন ও যৌথ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
আপনার মন্তব্য