০৪ মে, ২০১৭ ১৫:০৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "হাওর অঞ্চলগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা খুব দুর্গম। যে কারণে শিক্ষামন্ত্রীকে আমি বলবো সেখানে আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করে দিতে হবে। প্রতিদিন এই পানি ভেঙে ভেঙে স্কুলে যাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।"
বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুধু হাওর অঞ্চল নয়, আমাদের দক্ষিণাঞ্চলেও এ রকম প্রচুর দ্বীপ অঞ্চল আছে। সেই সঙ্গে আছে আমাদের পাহাড়ি অঞ্চল। পাহাড়ি অঞ্চলে অনেক দূরের পথ হেঁটে হেঁটে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে আসতে হয়। এটা যাতে না হয় সেজন্য আমাদের চরাঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল ও বিশেষ করে হাওরাঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যতটুকু সম্ভব আমরা আবাসিক করে দেবো। সে ব্যবস্থাটা আমাদের নিতে হবে।"
তিনি বলেন, "আমাদের যারা প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রী, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি তাদের পরীক্ষার সময়টাও বর্ধিত করা হয়েছে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, তারা পরীক্ষাটা দিতে পারছে। তাদের মধ্যে যে সুপ্ত মেধা, সেটা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তারাও যে আমাদেরই সন্তান। আমাদেরই একজন। তাদের প্রতি আমাদের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।"
প্রসঙ্গত, গত ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২ মার্চ পর্যন্ত। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মার্চ।
এ বছর ১০টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৩ হাজার ২৩৬টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৩৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০১ জন ও ছাত্রী ৮ লাখ ৭৬ হাজার ১১২ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৭ হাজার ১২৪ জন। এছাড়া অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৮ জন এবং বিশেষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮ জন।
গত বছরের চেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০ জন বেশি হওয়ায় বাড়ানো হয় ৯৩টি কেন্দ্র। এর মধ্যে দেশের বাইরে বিদেশের (জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপোলি, দোহা, আবুধাবি, দুবাই, বাহরাইন ও ওমানের সাহাম) ৪৪৬ জন পরীক্ষার্থীর জন্য ছিল ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র।
আপনার মন্তব্য