০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:৪০
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রাখাইনে রোহিঙ্গা দমন অভিযানের তীব্রতা যতোই বাড়ছে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ততোই দীর্ঘ হচ্ছে পালিয়ে আসা গুলিবিদ্ধ ও আগুনে ঝলসানো রোহিঙ্গাদের সংখ্যা।
এ পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হয়েছে শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ ৭০ জনের বেশি রোহিঙ্গা। সেবা দিতে হিমশিম খেলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা শিশু জোনায়েদ। মাথার যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ক্লান্ত হয়ে এক সময় ঘুমিয়ে গেছে। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও এখন তার সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
ছেলের বিছানায় একপাশে চোখে মুখে ভয় আর আতংকের ছাপ নিয়ে বসে আছে বৃদ্ধ বাবা মাহমুদ নবী। জোনায়েদকে বাঁচাতে পারলেও জানেন না দেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ফেলে আসা অন্য ৭ সন্তান বেঁচে আছে , নাকি মরে গেছে।
জোনায়েদের মত অনিশ্চয়তা নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে আরো দুই শিশু রুবেল এবং ইদ্রিস। জানেন না কোথায় হবে শেষ ঠিকানা।
হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন করে দীর্ঘ হচ্ছে দগ্ধ ও গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গাদের সারি। চাপ সামাল দিতে না পেরে বাধ্য হয়ে মেঝে, সিঁড়ি কিংবা বারান্দায় চিকিৎসা দিচ্ছেন তাদের।
মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসারা জানালেন , মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্মম নৃশংসতার কথা।
নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা পরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, 'এখানে যত রোগী এসেছে বেশিরভাগ রোগী গান শট ইনজুরি। দু-একজন আছে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। আর একটা কেস আছে লিভার ক্যান্সারের। অর একটা কেস আছে হেপাটাইটিস ভাইরাস আক্রান্ত। আমাদের সমস্ত সামর্থ্য দিয়েই তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।'
রোহিঙ্গারা সুস্থ হওয়ার পর তাদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আপনার মন্তব্য