সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:১৩

বাংলা একাডেমিতে দ্বিজেন শর্মাকে ফুলেল শ্রদ্ধা

ফুলে ফুলে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে ‘নিসর্গসখা’ লেখক দ্বিজেন শর্মাকে।

রোববার সকাল সোয়া ১১টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার মরদেহ নেওয়া হয় বাংলা একাডেমিতে। সেখানে বন্ধু-অনুরাগী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাংলা একাডেমি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি গুণী এই ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে৷

শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন শিক্ষাবিদ হায়াৎ মামুদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, প্রাবন্ধিক রমণীমোহন দেবনাথ, প্রকৃতিবিষয়ক লেখক ইনাম আল হক, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম।

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান জানান, বাংলা একাডেমির সাহিত্য পত্রিকা উত্তরাধিকার দ্বিজেন শর্মাকে নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা বের করবে। এরপর তাকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ ও জীবনীগ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় দ্বিজেন শর্মার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় তার নাগরিক শ্রদ্ধানুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল নটরডেম কলেজ প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীর সবুজবাগের রাজারবাগ বরদেশ্বরী কালি মন্দির সংলগ্ন শশ্মানে তার দাহ সম্পন্ন হবে বলে তার স্ত্রী দেবী শর্মা জানান।

শুক্রবার ভোরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দ্বিজেন শর্মা। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

প্রকৃতি ও নিসর্গবিষয়ক লেখালেখিরও পথিকৃৎ দ্বিজেন শর্মা। উদ্ভিদ ও প্রকৃতি নিয়ে লেখা তাঁর আকরগ্রন্থ ‘শ্যামলী নিসর্গ’। গাছ, ফুল বা ফলের বর্ণনায় লিখেছেন ময়মনসিংহ গীতিকা, জীবনানন্দ দাশ, জসীমউদ্দীনের কাব্য থেকে শুরু করে সিলেটের লোকগীতি, কিংবা মধ্যযুগের কাব্যগাথার উদ্ধৃতি।

তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে-‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা : দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’, ‘হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ডালটন হুকার’, ‘বাংলার বৃক্ষ’ ইত্যাদি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত