১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৪:১৫
মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় দেশে ফানুস উৎসব উদযাপন না করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।
সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানায় বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ।
লিখিত বক্তব্যে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের মুখ্য সমন্বয়ক অশোক বড়ুয়া বলেন, “বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় এ বছর আপামর মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ করছে, তারই ধারাবাহিকতায় তারা এবার প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুস উত্তোলন থেকে বিরত থাকবে।”
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা, যাতে কঠিন চীবর দানসহ ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তিথি অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবর এবারের প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বছর দিনটিতে ফানুস উত্তোলনের ধর্মীয় আচার থেকে বিরত থাকতে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের আহ্বায়ক সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।
রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়নের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরু বলেন, “আমরা বৌদ্ধধর্মীয় আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফেলোশিপ অফ বুড্ডিস্টসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।
“আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে তাদের অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশের শান্তিকামী জনতার সাথে আমাদেরও দাবি, মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ হোক।”
তিনি জানান, বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমারে গিয়ে সে দেশের সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। বাংলাদেশ সরকার ও মিয়ানমার দূতাবাসের অনুমতি পেলে তারা এই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে জানান শুদ্ধানন্দ মহাথেরু।
আপনার মন্তব্য