সিলেটটুডে ডেস্ক

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:০৬

কৃতজ্ঞতায় সদ্যোজাত রোহিঙ্গা কন্যার নাম ‘শেখ হাসিনা’

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা নারী কন্যার নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মেয়ের নাম শেখ হাসিনা রাখেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু হলে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা। বাংলাদেশে এসে কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন। তাইতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মেয়ের নাম রেখেছেন শেখ হাসিনা।

খাদিজার বাবা নুরুদ্দিন ও স্বামী ফখরুদ্দীনকে মিয়ানমারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপরই মা আলুম বাহারের হাত ধরে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসেন খাদিজা।

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে খাদিজা বলেন, ‘পুরো রাখাইন রাজ্য আগুনে জ্বলছে। আমাদের বাড়ি ঘরও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাণভয়ে ঘর-বাড়ি থেকে পালিয়ে আসি এবং গর্ভের সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম শুরু করি। একপর্যায়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসি। এখানেই আমার কন্যা সন্তানের জন্ম। রাখাইনের সহিংসতায় স্বামীকে হারিয়েছি। আমির মেয়ের নাম রেখেছি শেখ হাসিনা।’

ছয় সদস্যের পরিবারের মধ্যে এখন মেয়ে ও মা’ই খাদিজার তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। শুধু খাদিজাই নয় তার মতো ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নারী শরণার্থী বাংলাদেশে আছেন যারা অন্তঃসত্ত্বা।

অপরিষ্কার সবুজ শাড়ি পরা আলুম বাহার নাতনি শেখ হাসিনাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে আসতে গিয়ে আমরা অনেক ব্যথা সহ্য করেছি। আমার মেয়ে তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এখানে সে একটি ফুটফুটে শিশুর জন্ম দিয়েছে। আমরা তার নাম রেখেছি শেখ হাসিনা। তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আমাদের নতুন জীবনের আশা দেখিয়েছেন। এখন আমরা জীবনে কিছুটা শান্তি আশা করতে পারি।’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হলে প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে কয়েক দিন আগেই।

রোহিঙ্গাদের দুঃখ কষ্টে সমব্যথী হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছে। প্রয়োজনে নিজেদের খাবার ভাগ করে তাদের দেওয়া হবে। কিন্তু তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। তারা মিয়ানমারের নাগরিক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত