সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:৫৩

৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান টিআইবির

জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত এবং স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক মানববন্ধন থেকে এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এতে অংশ নেন টিআইবি কর্মী, সদস্য ও ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইয়েস গ্রুপের সদস্যরা।

২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে এ বছর টিআইবি’র উদ্যোগে `তথ্যের অধিকার, তথ্যই শক্তি; সুশাসনের হাতিয়ার, দুর্নীতি থেকে মুক্তি’ প্রতিপাদ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়সহ টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত দেশের ৪৫টি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতামূলক এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের সংবিধানে চিন্তার স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে এবং এই স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একদিকে আইনটি বাস্তবায়নের কথা বলে আর অন্যদিকে মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনটির কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এর ফলে আইনটির সুফল থেকে মানুষ বঞ্চিত হবে।

তথ্য প্রাপ্তিকে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার উল্লেখ করে টিআইবি প্রধান বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম কর্মীসহ যারা স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার চর্চা করেন তারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কারণে প্রায়ই ঝুঁকির সম্মুখীন হন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

এ সময় তিনি জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে তথ্য অধিকার বিষয়ক ৭টি করণীয় তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- তথ্য অধিকার আইনে ব্যবসা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করা, কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য প্রাপ্তির সঠিক আবেদন তৈরিতে সহায়তার জন্য সরকার কর্তৃক জনসাধারণের জন্য তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক বা অনলাইন উদ্যোগ গ্রহণ, সব কর্তৃপক্ষকে আইনের ধারা ৫ ও সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা ২০১০ অনুযায়ী তথ্য সংরক্ষণ এবং স্ব-উদ্যোগে তথ্য প্রকাশের নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া এবং তথ্য সংরক্ষণের সহায়ক হিসেবে বিগত পাঁচ বছরে প্রাপ্ত আবেদনপত্র বিশ্লেষণ করা।

এর বাইরে তথ্য দেয়ায় নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞান ও তথ্য দেয়ায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অর্জনে বিভিন্ন কারিগরি ও অনলাইন প্রশিক্ষণ দেয়া; তথ্য ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ও আইন বাস্তবায়নের গতি, তথ্য দেয়ায় কর্তৃপক্ষের দক্ষতা ও সংগতি পর্যবেক্ষণে তথ্য কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ মনিটরিং কার্যক্রমে সুশীল সমাজ ও জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগদান, তথ্য কমিশনের নেতৃত্বে সবার সক্রিয় সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন মেয়াদে পর্যায়ক্রমে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নে বার্ষিক জাতীয় বাজেটে অর্থ-বরাদ্দ রাখা, বিদ্যমান অন্যান্য আইন এবং বিধিকে তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যকর তথ্য কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগে বিচার বিভাগ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্রিয় সমর্থন নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত