০২ আগস্ট, ২০১৮ ১২:৫৬
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে ওঠে এসেছে ঢাকা রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ৯ দফা দাবিতে ঢাকায় স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।
এ আন্দোলন নিয়ে ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শিরোনাম করেছে, বিমানবন্দর এলাকায় বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে ঢাকার সড়ক দখলে নিয়েছে স্কুল শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসতে অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। ১৩ থেকে ১৫ বছরের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সরকারের একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া হয় বলে তারা জানায়। প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা এপির প্রকাশিত ছবি যুক্ত করে তারা।
তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থা শিরোনাম করে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুই কলেজ শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনায় বাসচালকদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে এ আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার দাবিতে সড়কের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে বলেও জানায় তারা। রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি ভাঙচুর চালানোয় পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন শিক্ষার্থী আহত হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সিঙ্গাপুরের ইংরেজি দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর সম্পর্কে লিখেছে, বাস দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ঢাকার সড়ক অবরোধ করেছে। এত বলা হয়েছে, প্রায় ৩ হাজার ইউনিফর্ম পরা স্কুল শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। তারা স্লোগান দেয়, আমরা ন্যায়বিচার চাই। তাদের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, আমার কেন কবরে, খুনিরা কেন ঘুরে বাইরে?
বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কথাও তুলে ধরেছে স্ট্রেইট টাইমস। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সড়কে নজরদারীতের অভাব ভয়াবহ। গণপরিবহন প্রায়ই চালানো হয় অনভিজ্ঞ, লাইসেন্সবিহীন ও অল্পবয়সী চালক দ্বারা। একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ২০০ জন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। যা ২০১৬ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।
পত্রিকাটির খবরে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের বিতর্কিত মন্তব্যে সমালোচনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তার পদত্যাগ দাবি করছেন। এছাড়া বৃষ্টির দিনে অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হলেও অনেকেই এই আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছেন বলে লিখেছে পত্রিকাটি। রশিদুর রহমান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। তিনি বলেন, বড়দের যা করা উচিত ছিল তা করছে শিক্ষার্থীরা। এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে তারা।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি বুধবার (১ আগস্ট) লিখেছে, রাজধানী ঢাকাজুড়ে টানা চতুর্থদিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চালকের গ্রেফতারের দাবি করছে তারা।
চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া লিখেছে, বুধবার সহপাঠী নিহতের ঘটনায় ঢাকায় সড়কে নেমেছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। আগের তিনদিনের মতোই শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। সরকার দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে বলা হয়, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নাইজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম পাঞ্চ ডট কমও ঢাকার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর প্রকাশ করেছে। এছাড়া বিবিসি বাংলা, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডের বাংলা সংস্করণ, জার্মানির ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণে ঢাকার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একাধিক খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা হাসপাতালের পাশে ফুটপাতে বাসচাপায় রোববার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। তারা গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।
এরপর ঘাতক জাবালে নূর বাসের চালকের ফাঁসি এবং নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের ক্ষমাপ্রার্থনাসহ নয় দফা দাবিতে টানা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আসছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানী কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
আপনার মন্তব্য