০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫২
সিলেট নগরের জল্লারপার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা পানি সংকট নিরসনের দাবিতে সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের তৈরি হয়েছে বিপরীতমুখী বক্তব্য। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা নগর ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে পানিপ্রত্যাশী বাসিন্দাদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন, কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। অন্যায়ভাবে ছয়জন যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলায় পানি শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
সিসিক সূত্র জানায়, জল্লারপার এলাকার প্রায় ২৫ জন বাসিন্দা খালি কলস ও বালতি নিয়ে দুপুরে নগর ভবনে যান। তারা পানির সংকটের সমাধান চেয়ে ষষ্ঠ তলায় পানি শাখার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, উত্তেজিত কয়েকজন যুবক সিসিক ভবনের নির্মাণাধীন অংশের ইট-পাটকেল ছুড়লে বেশ কয়েকটি কাঁচের জানালা ভেঙে যায়। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছয়জনকে ধরে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসেন এবং পুলিশ ডেকে তাদের সোপর্দ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানান, আটক ছয় যুবককে থানাহাজতে রাখা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্ততির তথ্য জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদার ভিন্ন সুর মিলিয়ে বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে মূলত নগরে ঠিকভাবে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে ছয়জন আটকের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
এদিকে, সিসিক ভবনে কোনো ধরনের ভাঙচুরের খবর অস্বীকার করেছেন জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক। এহছানুল হক তাহের সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনে গিয়ে পানির সংকটের কথা জানিয়েছিলেন। তখন কর্মকর্তারা তিন দিনের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তারা আবার শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে সিটি করপোরেশনে যান।
এহছানুল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পানির দাবি জানাতে গিয়েছিলাম। সিটি করপোরেশনে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। অন্যায়ভাবে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তাদের মুক্তি দিতে হবে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটটুডেকে বলেন, দাবি জানানোর একটি প্রক্রিয়া আছে। তারা আমার কাছে দাবি জানাতে পারতেন। কিন্তু নগর ভবনের ৬ তলার উপরে উঠে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর কোনভাবেই কাম্য নয়।
পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিরা সকলেই নগরের জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন- মিরাজ, তাহমিদ, তাহের, জুয়েল, রুহান এবং মারুফ।
আপনার মন্তব্য