সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ আগস্ট, ২০১৮ ২০:৫৩

যুক্তরাষ্ট্রকে নাক না গলানোর পরামর্শ তথ্যমন্ত্রীর

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দেওয়া বক্তব্যকে ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শিষ্টাচারবহির্ভূত নাক গলানোর অপপ্রয়াস’ বলে অভিহিত করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী এ অভিমত ব্যাক্ত করেন। এসময় তিনি দূতাবাসের দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, আন্দোলনে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আজই (মঙ্গলবার) চিঠি দেয়া হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ধানমণ্ডিতে যে সংঘর্ষ হয়েছে, এটা বাস্তব ঘটনা। কিন্তু আন্দোলন ও শিশুদের ওপর কোনো আক্রমণ হয়নি। ঢাকা শহরের দুই-তিন জায়গায় বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে মার্কিন দূতাবাস যে বক্তব্য দিয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে শিশুদের আন্দোলনকে বর্বরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে দমন করার যে কথা বলা হয়েছে, তেমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মার্কিন দূতাবাস ঢাকা শহরের বাস্তবচিত্রের বাস্তব প্রতিফলন করেনি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শিষ্টাচারবহির্ভূত নাক গলানোর অপপ্রয়াস করেছে।

তথ্যমন্ত্রী জানান, তারা এর নিন্দা করেন এবং এটি প্রত্যাখ্যান করছেন। একইসঙ্গে এটি প্রত্যাহারেও অনুরোধ করেছেন।

ইনু বলেন, শিক্ষার্থীরা গণপরিবহনের অনিয়মগুলোর ধরার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় ও প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দেয়। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধান এবং তাদের ৯ দফা বিশ্লেষণ সাপেক্ষে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেন। এ পরিস্থিতিতে খেয়াল করেছি, বাইরে থেকে উসকানি এবং কোমলমতি শিশুদের আন্দোলনকে চক্রান্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। একপর্যায়ে কতিপয় চিহ্নিত মহল এমনকি আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে হামলা করতে উদ্যত হয়। শিশুদের ওপর কোনো দমনপীড়ন হয়নি বলে জানান ইনু।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের বাংলাদেশের প্রধানও এ ধরনের একটি বিবৃতি দিয়েছেন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এটি সঠিক বিবৃতি নয়। সরকারের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতিসংঘের এই বিবৃতিকে অনভিপ্রেত ও অযাচিত বলে মনে করেন।

তিনি আশা করেন, তারা এ ধরনের বিবৃতি আর দেবেন না এবং বাংলাদেশের প্রকৃত ঘটনার ভিন্ন চিত্রায়ন করবেন না। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য লিখিতভাবে দুই দপ্তরে পাঠানো হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

হাসানুল হক ইনু বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের শেষের দিকে কিছু জায়গায় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা দুঃখজনক। হামলাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আজই (মঙ্গলবার) চিঠি দেয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৌখিকভাবেও ইতিমধ্যে আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি পদক্ষেপ নেবেন।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে আমাদের সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছিল তাদের চিহ্নিত করছি। সামাজিক মাধ্যমে রটনাকারী ও মিথ্যাচারীদের চিহ্নিতের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত