সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ আগস্ট, ২০১৫ ০২:০৪

আমরা কি ভাই হত্যার বিচার পাব : নিলয়ের বোনের প্রশ্ন

ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জীর মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে তার মা অপর্ণা চ্যাটার্জী মূর্ছা যাচ্ছেন বার বার। মুখে শুধু একটিই কথা, 'আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো। আমার একমাত্র অবলম্বনের জীবন কেড়ে নিল ওরা।'

আর বাবা তারাপদ চ্যাটার্জী আগে থেকেই অসুস্থ। কানে কিছুটা কম শোনেন। তাকে ঘটনার পরপরই জানানো হয়নি ছেলের মৃত্যুর খবর। কিন্তু রাতে জানার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরেও নিহত নীলাদ্রির বাবা-মা-বোনের চোখে ছিল জল। মুখে চিৎকার-আর্তনাদ। বার বার নীলয়ের নাম ধরে মূর্ছা যাচ্ছেন মা। অনেকে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুতেই থামছে না আহাজারি।

নীলাদ্রি নীলকে হত্যার বিষয়ে বোন জয়শ্রী চ্যাটার্জি বলেন, 'আমার ভাইয়ের কি অপরাধ ছিল যে তাকে এভাবে মেরে ফেলতে হলো? আমাদের বেঁচে থেকে কি লাভ। আমরা কি পাব ভাই হত্যার বিচার।' তিনি বলেন, 'আমার ভাইয়ের আগে ৩ ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের হত্যার কোন বিচার হয়নি। এ হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হবে না।' তার প্রশ্ন ব্লগার হত্যার বিচারে কি সরকার আন্তরিক নয়?

জয়শ্রী জানান, তার ভাই নীল ঈদের ছুটির পর গত ২৫ জুলাই বাড়ি থেকে ঢাকা যায়। ১৫ রোজার দিকে সে পিরোজপুরের টোনা ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে আসে। তিনি জানান, নীলাদ্রি নিহত হওয়ার আগের দিন সর্বশেষ মায়ের সাথে ফোনে কথা বলেন।

নীলাদ্রি ১৯৮৯ সালের ১০ নভেম্বর পিরোজপুর সদর উপজেলার চলিশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা শুরু চলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তেজদাসকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন নীল।

তেজদাসকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রমথ মণ্ডল জানান, নীল ২০০৫ সালে এসএসসি পাশ করেন। ওই বিদ্যালয় থেকে মাত্র ৩ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে নীল একজন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত