৩০ আগস্ট, ২০১৫ ২০:১৫
আদর করে ডাকত সবাই ছোট্ট ভূত বলে। সে ভূত আর নাই, সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। আর কখনও বলবে না সে বাবা তুমি বাংলাদেশের কথা বলো, বাংলাদেশি কথা বলো, সত্য কথা বলো, ঠিক আছে, ঠিক আছে...
সাদমান ক্যাসপার। চার বছরের ছোট্ট বালক। তার কাছে সত্য মানে বাংলাদেশ। তাই বাবার কাছে আবদার করত সত্য কথা মানে বাংলাদেশের কথা শুনতে। বাবা অভিযাত্রী তাই যাওয়ার সময়ে ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে আর দেবে না, আর কখনও বায়না ধরবে না বাবার সঙ্গে পাহাড়ে যেতে।
সাদমান ক্যাসপার। মা বাবার সঙ্গে চট্টগ্রামে থাকত। ক্যাসপার বড় হলে বাবার মতো ট্রেকার হবে। বিয়ার গ্রেইলের মতোও হতে পারে, ওই শো'টার সবগুলো পর্ব ক্যাসপারের মুখস্ত। তাই সে নিজের কাজ এখন থেকেই নিজে করে। ভাত খাওয়া, খেলা শেষে নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা, টয়লেট শেষে নিজে নিজেই পানি ঢেলে দেওয়া। বাজে গন্ধ ক্যাসপার একফোঁটাও পছন্দ করে না।
তখনই বাঁধলো সমস্যাটা। ক্যাসপার দেখেছে তার টয়লেটের সাথে ঝরঝর করে রক্ত যাচ্ছে। বোঝেনি, কী সর্বনাশটা চলছে নিজের ভেতর। ব্যথা পায়, কাঁদে, কাউকে বলেনা। চার বছরের বাচ্চা, কীভাবে বোঝাবে? একদিন মায়ের সন্দেহ হলো। ছেলে টয়লেটে কাঁদছে, জোর করে ভেতরে গেলেন। এবং রক্তের পরিমান দেখে স্তব্ধ হয়ে পড়লেন। এতো রক্ত!
এরপরে চট্টগ্রামের রয়েল ক্লিনিক নেওয়া হলো। তারপরে অবনতি হলে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে পিজিতে নেওয়া হয়। এখানেই ক্যাসপারের রক্তক্ষরণের কারণ শনাক্ত ও তা অপসারণ করা সম্ভব হয়। ২৭ আগস্ট ক্যাসপারের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। গত জুম্মার নামাজের পরে সারাদেশে ক্যাসপারের জন্য দোয়া করা হয়।
পরের দিন ডাক্তার ইমরুল হাসান ওয়ার্সি জানান, 'হঠাৎ করেই ক্যাসপারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইমার্জেন্সি অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেয় ওর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড। ব্লিডিং এর কারণ এবং অবস্থান সনাক্ত করা এবং ব্লিডিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাত গতরাতে এ অপারেশন শুরু করা হয়। 'মেকলস ডিভার্টিকুলাম' শনাক্ত হয় একটু ব্যতিক্রমী অবস্থায় এবং অবস্থানে। আর ওটাই ছিলো ওর ব্লিডিং এর কারণ। রোগাক্রান্ত অংশটি কেটে বাদ দেয়া হয় ওর ইনটেস্টাইন থেকে। ২৪ ঘন্টা পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকবে ক্যাসপার।'
গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) ডাক্তার ইমরুল হাসান ওয়ার্সি জানান, ইউরিন আউটপুট খুবই কম। ব্লাড প্রেসার খুবই কম। হৃদ স্পন্দন অনেক বেশী। সব মিলিয়ে ওর অবস্থা খুব একটা ভালো না।
আজ সকালে তিনি ক্যাসপারের আপডেট জানান, 'ক্যাসপারের ইউরিন আউটপুট কিছুটা বেড়েছে। ব্লাড প্রেসার এখনো আনস্টেবল। সার্বিক ভাবে ওর অবস্থা গতকালের মতোই। কিছু কিছু প্যারামিটারে সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো ঝুঁকির মধ্যেই আছে। যে কোনও সময় ওর অবস্থা যেকোন দিকে মোড় নিতে পারে। ক্যাসপার সংগ্রাম করছে। আমরাও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।' কিন্তু সে সংগ্রাম সফল হয় নি। ক্যাসপার আর ফিরবে না।
আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে ক্যাসপার না ফেরার দেশে চলে গেছে। ক্যাসপারের মৃত্যু সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকে হাহাকার লেগেছে খুব, প্রতিনিয়ত যারা আপডেট দিচ্ছিলেন, নিচ্ছিলেন তাদের কাছে শোকের বার্তা হয়ে এল ক্যাসপারের চলে যাওয়া।
আপনার মন্তব্য