১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ২২:১৫
বেতন কাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আপত্তি খতিয়ে দেখতে যে কমিটি করা হয়েছে, তা থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে।
আন্দোলনরত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়ে তা মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অষ্টম বেতন কাঠামোয় শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এর আগে মুহিতের এক ‘অবমাননাকর’ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আপত্তির মধ্যে সরকার অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদনের সময় শিক্ষকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠন করা হয় ‘বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’;যার প্রধান অর্থমন্ত্রী মুহিত।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, “ইতোমধ্যে যিনি শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিপক্ষ হিসাবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন এবং শিক্ষকদের ব্যাপারে প্রতিহিংসাপরায়ণ বক্তব্য রেখে বিতর্কিত করেছেন, সেই ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন কোনো কমিটি শিক্ষকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
শিক্ষকদের পদোন্নতি ও আন্দোলন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর আগের বক্তব্য তুলে ধরে শিক্ষক নেতা বলেন, “বয়স্ক অর্থমন্ত্রী দেশের উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করা এবং শিক্ষাঙ্গনকে অশান্ত করার এক নীল নকশা বাস্তবায়নে নেমেছেন।
“আমাদের প্রশ্ন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সাবেক আমলা ও বর্তমান আমলাপক্ষের একজন অর্থমন্ত্রী হয়ে তার পক্ষে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংবলিত এমন বক্তব্য কি শোভা পায়? উচ্চশিক্ষাবিরোধী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে অথবা উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করে তিনি কার স্বার্থ হাসিল করতে চাইছেন?”
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট ও প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
“কোনো মন্ত্রীর কথায় কিছু হবে না। আমরা সেটা মানব না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাবলিকলি ঘোষণা চাই; তা না হলে আমরা দাবি থেকে একবিন্দুও সরব না।”
অর্থমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা কমিটির সঙ্গে শিক্ষকরা কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ বলেন, “অধ্যাপক ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে অষ্টম বেতন কমিশন সচিবদের জন্য দুটি গ্রেড বাড়িয়ে এক ধরনের রাজকীয় পরিস্থিতির তৈরি করেছে।
“সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপকরা আগের চেয়ে চার গ্রেড নিচে নেমে এসেছেন। এখন সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপকরা হয়ত আগের মতো বেতন পাবেন, কিন্তু নতুন করে কেউ আর ওই জায়গায় যাওয়ার সুযোগ আর থাকছে না।”
বেতন বৈষম্য দূর, মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া ও স্বতন্ত্র বেতন-স্কেলসহ চার দফা দাবিতে রোববার ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পূর্বঘোষিত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে পরীক্ষা কর্মবিরতির আওতার বাইরে থাকার কথা জানান শিক্ষকরা।
ফেডারেশন নেতারা জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরও তারা একইভাবে কর্মবিরতি পালন করবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, টেলিভিশন এন্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য