১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:২৩
ভ্যালু এডেড ট্যাক্স যা ভ্যাট হিসাবে পরিচিত তা নিয়ে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরদার হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মুটোফোন বার্তায় বলে ভ্যাট বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় মালিকরা বহন করবে। এটা একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য অনেকটা প্রকৃত সত্য আড়াল করার মতো।
কারণ ভ্যাট সাধারনত ব্যবসায়ীদের উপর ধরা হয় এবং তারা ভোক্তাদের থেকে আদায় করে থাকেন। আবার এখানে তারা ব্যবসা ও করে থাকেন। যে পরিমাণ ভ্যাট প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা আদায় করছে তার এক চতুর্থাংশও রাস্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে কিনা সন্দেহ।
আর ভ্যাট যদিও ব্যবসায়ীরা আদায় করে থাকেন, কিন্তু ব্যবসায়ীরা এটা তাদের পকেট থেকে দেয় না, ভ্যাট, ট্যাক্স আর, চাঁদা, ব্যাংক সুদ যা-ই খরচ হয় তার সবকিছুইর যোগান দিতে হয় ভোক্তাদের।
বিষয়টি জানার পরও এনবিআর এ ধরণের সত্যের অপপ্রচার করায় এ ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে বিরত থাকার জন্য এনবিআরের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী সংগঠন কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির দুর্বলতার কারণে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীদেরকে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে বাধ্য হতে হচ্ছে। তাই অনতিবিলম্বে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি তারা আহবান জানিয়েছেন।
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েরশিক্ষার্থীদের উপর আরোপিত ভ্যাট ও এ নিয়ে এনবিআরের এসএমএস এবং দেশ্যবাপী শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতায় এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন সরকার বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পৃষ্টপোষকতা প্রদান করে শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছে এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ধ্বংসে দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
সাধারণ মানুষ উচ্চ শিক্ষার জন্য এখন অনেকটাই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর ভ্যাট আরোপ করে সরকার সাধারণ জনগণের উচ্চ শিক্ষা লাভে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ভ্যাট বা ট্যাক্স আদায় প্রক্রিয়ায় গোড়ায় গলদ রেখে বারবার করের পরিধি বাড়িয়ে সরকার রাজস্ব আদায়ের চেয়ে সরকারের কর বিভাগের একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারীদের জন্য লুটপাটের দরজা খুলে দিচ্ছে।
কর আদায়ে প্রতি বছর বিভিন্ন ভাবে পরিধি বিস্তৃত হলেও সত্যিকার অর্থে সরকারের রাজস্ব বাড়ার চেয়ে কর্মচারীদের পকেট ভারী বেশী হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরো অভিযোগ করে বলেন ব্যবসায়ীরা জোর গলায় গলা ফাটিয়ে বলেন তারা সরকারকে ট্যাক্স, ভ্যাট দিয়ে থাকেন। আর এ জন্য এনবিআরের বিভিন্ন পুরস্কারে ভুষিত হলেও প্রকৃত পক্ষে ভ্যাট, ট্যাক্স সবকিছুই ভোক্তাদেরকে পরিশোধ করতে হয়। ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের এ পরিশোধিত ভ্যাট, ট্যাক্স তার অন্যান্য ব্যবসায়িক পণ্যের ন্যায় এনবিআরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় তাতে ভাগ বসিয়ে নিজেরা লুটপাট করে থাকে। তাই সবার আগে প্রয়োজন এনবিআরের কর আদায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। তাহলেই সরকারের আভ্যন্তরীন রাজস্ব আহরণ অনেক বেড়ে যেতো।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা বিভিন্ন ফিস এর নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছে। ফিস আদায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় মালিকপক্ষ বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখানে অসহায় আর সরকার এখানে কোন প্রকার নজরদারি না করে মালিকদেরকে বেপরোয়া অর্থ আদায়ের সুযোগ করে দিয়েছে। যা কল্যানমুখী রাস্ট্রের কোন ভাবেই উচিত হয়নি। তারা আবার সরকারী ও বেসরকারী অনুদানও গ্রহণ করছে।
এখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন তাদের আয় ব্যয়ে কোন প্রকার নজরদারি করতে পারছে না। ফলে মোদি দোকানের মতো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিপুল পরিমাণ অর্থ লাভ করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে গুণতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
তাই অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আইনকে সংশোধন করে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আয় ব্যয়ের স্বচ্চতা নিশ্চিত করা এবং উচ্চ শিক্ষায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবী জানান।
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি সদস্য এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য