নিউজ ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০৯:৩০

কর্মবিরতিতে সারাদেশের চা শ্রমিকরা

সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি প্রদানসহ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি দ্রুত নবায়ন করার দাবিতে সারাদেশে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী সকাল নয়টা থেকে শুর হয়েছে, কর্মবিরতি চলবে সকাল এগারোটা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (বাচাশ্রই) অন্তর্গত ৭টি ভ্যালি কমিটি এবং প্রতিটি চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃত্বে দেশর ২৪০টি (ফাঁড়ি বাগানসহ) চা বাগানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

ই্তপূর্বে সম্পাদিত দুই বছরের চুক্তি দ্রুত নবায়ন না হওয়ায় প্রতিটি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির মধ্যে এখন বিরাজ করছে ক্ষোভ ও উত্তেজনা। চুক্তিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি প্রদানের বিষয়টি সংযোজনের দাবি জানাচ্ছেন শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালি কমিটির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, গত বছরের ১০ আগস্ট চা শ্রমিকদের সরাসরি ভোটে আমরা নির্বাচিত হই। শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আমরা চা বাগানের মালিকপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে সভা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, ভ্যালি কমিটি এবং বাগান পঞ্চায়েত কমিটিগুলোর এ কর্মসূচিকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তী সভায় শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এ কর্মসূচি দিয়েছেন। সারাদেশের মতো সিলেট বিভাগের সকল চা বাগান শ্রমিকরা আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবে।

বাংলাদেশীয় চা সংসদের (সিলেট ব্রাঞ্চ) চেয়ারম্যান ও ফিনলে টি কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গোলাম মোহম্মদ শিবলি বলেন, অনতিবিলম্বেই শ্রমিকদের চুক্তিগুলো আমরা বাস্তবায়ন করবো। আমরা সব সময়ই আমাদের প্রিয় চা শ্রমিকদের মৌলিক দাবিগুলোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে  থাকি। এ কর্মসূচির ব্যাপারে তিনি বলেন, সম্ভবত আমাদের প্রতি চাপ সৃষ্টি করার জন্য তারা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আমাদের চা শ্রমিকদের জন্য আমরা রেশন, চিকিৎসা, বাড়ি ইত্যাদি ফ্রি করে দিয়েছি।

অন্য শ্রমিকদের চেয়ে চা শ্রমিকরা ভালো আছেন উল্লেখ করে চা বাগান মালিক পক্ষের এই প্রতিনিধি বলেন, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চা পাতার মৌসুম। গড়ে তারা প্রতিদিন গড়ে ৫০ কেজি করে চা পাতা আহরণ করতে পারেন। প্রতি কেজি চা পাতার উত্তোলন মূল্য ৩ টাকা হলে তারা দিনে আয় করেন ১৫০ টাকা। কেউ কেউ আবার ৭০ থেকে ১০০ কেজিও তুলে ফেলেন। এখন তো চুক্তি অনুযায়ী ওই তিন টাকা আরো বাড়বে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত