সিলেটটুডে ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ২২:৫৯

নিখোঁজ ৯২ বাংলাদেশীর তালিকা ধরে এগুচ্ছে দূতাবাস

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের হজ বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম বলেছেন বাংলাদেশ থেকে যারা হজ্জ করতে গেছেন তাদের মধ্যে গতকালের দুর্ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছেন সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য তারা এখনও পর্যন্ত পান নি। খবর বিবিসি বাংলা।

সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য না জানানো পর্যন্ত এটা বলা যাচ্ছে না।

দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য জায়গা থেকে বাংলাদেশি হাজিদের উৎকন্ঠিত আত্মীয়স্বজন যারা তাদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ পাচ্ছেন না তা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়ে পারছেন না তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা ৯২ জন ‘নিখোঁজ’-এর একটি তালিকা তৈরি করেছেন।

''আমাদের মেডিকেল টিম লিডার, যুগ্ম সচিব হজ বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে গিয়েছেন এবং এদের সম্পর্কে খোঁজখবর করছেন।"

জহিরুল  ইসলাম আরও বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) একজন হজযাত্রীর ছেলে দূতাবাসকে জানান যে তার মা ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং তিনি মারা গেছেন, কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয় নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

''এটা ওনার ছেলের বক্তব্য। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনও কিছু বলতে পারছি না।''

সেখানে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে – ঘটনায় আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

জহিরুল  ইসলাম জানিয়েছেন তিনি এখনও মিনার মাঠে আছেন। সেখানে এখনও হজের আনুষ্ঠানিকতা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

''পুরো মক্কায় এখন প্রচুর যানজট- এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যাওয়া খুবই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবুও তার মধ্যেই দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে ঘুরে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।''

তিনি বলছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বলা হয়েছে একটা স্পষ্ট চিত্র পেতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।

মিনার ‘শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথ্র নিক্ষেপের’ সময় পদদলনে সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৭১৭ জন হাজি। তবে ইরানিয়ান গণমাধ্যম বলছে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০। সনাক্ত হওয়া লাশের  মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশীও রয়েছেন।

তারা হলেন, জামালপুরের ফিরোজা বেগম, ফেনীর তাহেরা বেগম ও নুরুনবী মিন্টু এবং সুনামগঞ্জের জুলিয়া হুদা।

মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সৌদি সরকার। মিনা ট্র্যাজেডির জন্য ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, সৌদি সরকারকে এ ঘটনার দায় অবশ্যই নিতে হবে।

ইরানের হজ সংস্থা ওহাদি দাবি করেছে পাথর ছোঁড়ার স্থানটিতে যাওয়ার ৫টি রাস্তার মধ্যে ২টি বন্ধ ছিলো বলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে লেবাননের সংবাদ মাধ্যম আদদিয়ার জানিয়েছেন সৌদি রাজপুত্রের গাড়িবহরের কারণেই ঘটেছে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

আদদিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, "আদদিয়ার এর প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়, মিনার ২০৪ নম্বর সড়ক থেকে ২২৩ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল দিয়ে রাজপুত্রের গাড়িবহর পার হওয়ার সময় হঠাৎ করেই কিছু  সময়ের জন্যে থামিয়ে দেয়া হয় হাজিদের মিছিল। কিন্তু পেছন থেকে যারা আসছিলেন একই গতিতে, তাঁরা বিষয়টি দেখা সম্ভব না হওয়ায়  প্রবল গতিতে তাঁরা সামনেই অগ্রসর হতে থাকেন। এ সময় মাঝখানের ভিড়ে পিষ্ট ও পদদলিত হন অসংখ্য মানুষ। সামনে বা পেছনে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না তাদের, অনেকটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হওইয়াতেই এমন বড় দুর্ঘটনা ঘটে।"

আপনার মন্তব্য

আলোচিত