০৭ অক্টোবর, ২০১৫ ১২:২৮
মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭.৩০টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ইউএস বাংলার বিএস ১০৯ নাম্বার ফ্লাইটে টিকিট কিংবা বোর্ডিং পাস ছাড়াই উঠে বসেছিলো বোরখা পরা অল্প বয়সী এক তরুণী। তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা বুঝতে পারার পর ফ্লাইটের মধ্যে জঙ্গি আতঙ্ক দেখা দেয়। এদিকে ট্যাগ ছাড়া অতিরিক্ত একটি সুটকেস পাওয়ার পর আতঙ্কটা আরো বাড়ে।
পরে রানওয়ের দিকে যাত্রা করা প্লেন থামিয়ে বোর্ডিং চেক করে সেই তরুণীকে নামিয়ে ফের যাত্রা করে প্লেনটি। জিজ্ঞাসাবাদের পর মেয়েটিকে ভারসাম্যহীন মনে হওয়ায় তার মায়ের সাথে যোগাযোগ করে তার কাছে তুলে দেয় এয়ারপোর্ট এপিবিএন।
এই ফ্লাইটে করেই চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পুলক কান্তি বড়ুয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে কয়েকটি ছবিসহ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তোলে ধরেছেন। সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তোলে ধরা হল:
"এই মাত্র এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের কাছ থেকে,দেশ রক্ষা পেল,সেই সাথে আমিও বেঁচে গেলাম,চট্টগ্রাম যাবার জন্যে রাত ৭.৪৫ এর ইউ এস বাংলার বি এস ১০৯ নং ফ্লাইটে উঠে বসলাম।প্লেন রান ওয়ের দিকে রওনা হতেই,একটা ফোন পেয়ে,থেমে গেল।হঠাৎ বলা হলো সকলের বোর্ডিং হাতে তুলে দেখানোর জন্যে।যথারীতি তাই করলাম,কিছুক্ষণ পর দেখা গেল বোরখা পরা অল্প বয়সী এক তরুণী টিকেট বিহীন,তাকে জিজ্ঞাসা করা হল,বললো টিকেট হারিয়ে ফেলেছে,কিন্ত বোর্ডিং সংখ্যার সাথে যাত্রী সংখ্যা মিলছে না,তরুণীটির কোন লাগেজ বা অভিভাবক নেই,সম্পূর্ণ যাত্রী বোঝাই এয়ারটিতে ঐ একটিমাত্র সীট খালী ছিল।সম্পূর্ণ ব্যাপারটি এই মাত্র চোখের সামনে ঘটলো।আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন এয়ারপোর্ট ঘিরে ফেলেছে,আমরা সব যাত্রী কে প্লেন থেকে নামানো হয়েছে,সম্পূর্ণ প্লেন ও যাত্রীদের চেক করা হচ্ছে ।এই অবশতায় পোস্ট লিখছি।তরুণীটিকে জিজ্ঞাসা করার জন্যে নিয়ে গেছে।প্রশ্ন হলো বোর্ডিং ছাড়া এতোগুলো চৌকাঠ মারিয়ে তরুণীটি প্লেনে উঠলো কী করে।দেশবাসী সাবধান ইটালিয়ান,জাপানী,খৃস্টান পাদ্রীর পর কি তাহলে যে কোন একটি যাত্রী বাহী প্লেন আকাশে ওরা উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল?নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে?কারণ তরুণী টি ভাবলেশহীন ও প্রতিবাদ হীন ভাবে দ্রুত প্লেন থেকে নেমে যাওয়া,সবকিছু মিলিয়ে সন্দেহ কে ,প্রতি মুহুর্তে বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঘটনা যদি সত্য হত,তবে আজ হতো আমার শেষ দিন।মানুষের শেষ দিন কেমন হয়?বসে বসে সারাদিন দিনটিকে মিলাচ্ছি। ভাবছি এই মৃত্যু উপত্যকা কি আমার দেশ?এতো অনিশ্চিত জীবনের কাছে কোন স্বপ্ন কি বেঁচে থাকে?এই মাত্র খবর পেলাম একটি অতিরিক্ত সুটকেস ট্যাগ ছাড়া পাওয়া গেছে,আমাদের টিকেট ও ট্যাগ চেক করা হাচে ,এর মধ্যেই লিখে চলেছি,বন্ধুরা যদি আর ফিরে না আসি,জীবনের কাছে সময় প্রিয় মুখ সব ভেসে আসছে বানবাসী জলের মতো।ক্ষমা করো,কষ্টের কাশবনে যদি কোন ভুল করে থাকী।বিদায়।
সর্ব শেষ আপডেট
-------------------------রাত সাডে দশটা।
আমাদের আলাদা করে প্লেনে তুলে পাঠিয়ে দিয়েছে,শেষ খবর পর্যন্ত মেয়েটির কাছে কোন বোর্ডিং কার্ড বা প্লেনের টিকেট পাওয়া যায় নি,সে বলছে সে আজ ডুবাই থেকে এসেছে।এখনো জিগগাসা বাদ চলছে।আমি চট্টগ্রাম পৌঁছেছি।"
আপনার মন্তব্য