সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৩:০৩

আওয়ামী লীগ ছাড়াও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে: বদিউল আলম

আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়াও নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য হবে না- এমন মন্তব্য করেছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ‘গণতন্ত্র সুরক্ষায় রাষ্ট্র মেরামত এবং জাতীয় নির্বাচন’ নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের অনেকেই পালিয়ে গেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশে বর্তমানে একটি বিশেষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাদের অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেই মামলা চলমান। তাদের বিচার যদি শেষ না হয়! এমন পরিস্থিতিতে ওই দলটির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কাউকে এখন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে তারা যদি সংগঠিত হতে না পারে, সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন হলে সেটা অগ্রহণযোগ্য হবে না বলে আমি মনে করি।’

একই সঙ্গে বিগত দিনে নির্বাচনি অপরাধের সঙ্গে জড়িত সবারই বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই নির্বাচন বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘ডামি, একতরফা ও মধ্যরাতের নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ এ দেশে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় সবাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনব্যবস্থাকে বিভিন্ন অজুহাতে দলীয়করণ করে সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে। অতিউৎসাহী হয়ে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে। তাই নির্বাচনি অপরাধে অভিযুক্ত সব ব্যক্তির বিচারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল রুটিন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারকে ১৫-১৬ বছরের জঞ্জাল দূর করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তার পরও জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস পেতে পারে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর পরিকল্পিতভাবে নয়াপল্টনে হামলা চালিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের জন্য সমতল ক্ষেত্র তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। সে সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি কথিত দলকেও তারা নিবন্ধন দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, এ দেশের মানুষ ভুলে যায়নি কীভাবে দিনের ভোট রাতে হয়েছিল। মৃত মানুষ ভোট দিয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিরাও ভোট দিয়েছেন। কোথাও কোথাও শতভাগ ভোট পড়েছে। শিশুরাও ভোট দিয়েছে। ডামি প্রার্থীর নির্বাচন হয়েছিল। একই ব্যক্তি ভোট দিয়ে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। বারবার ভোট দিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ছিল। ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোট পড়লেও ভোটের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ দেখানো হয়েছিল।

ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির আয়োজনে ‘গণতন্ত্র সুরক্ষায় রাষ্ট্র মেরামত এবং জাতীয় নির্বাচন’ শীর্ষক প্রস্তাবে পক্ষের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, আলমগীর স্বপন, মসিউর রহমান খান, জাহিদ রহমান ও আহম্মদ ফয়েজ। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত