২৪ অক্টোবর, ২০২৪ ১৩:৪৭
আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি।
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় ছাত্ররাজনীতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে মন্তব্য করে ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির বলেন, ছাত্রলীগ একটি খুনি সংগঠন। খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ভোট ডাকাতি থেকে শুরু করে গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে ছাত্রলীগ। সব জঙ্গি সংগঠন মিলে যত মানুষ খুন করেছে ছাত্রলীগ এককভাবে তার চেয়ে বেশি মানুষ খুন করেছে। ২০০৯ সাল থেকে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী তাণ্ডবের বিরুদ্ধে ছাত্রদল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এতে ছাত্রলীগ এবং সরকারি বাহিনীর হাতে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছে এবং শহিদ হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছিল। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে রেহাই পেতে যখন বিভিন্ন মহল থেকে বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠেছিল, তখন ছাত্রদল শুধু সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি করেছিল। আজ ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে ছাত্ররাজনীতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। গণতন্ত্রকামী সকল ছাত্রসংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। শুধু ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করা চূড়ান্ত সমাধান নয়। ছাত্রলীগের হয়ে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
নিষিদ্ধ করলেই হবে না, বিচারের আওতায় আনতে হবে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেছেন, সারাদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্তৃক অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমি নিজেও বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করায় শিক্ষার্থীরা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে এবং তাদের মধ্যে একটা প্রশান্তির আবহ বয়ে যাচ্ছে। এই নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়েই সব কাজ শেষ হয়ে যায়নি। বরং ছাত্রলীগের প্রত্যেক সন্ত্রাসীকেই তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ বিচারের আওতায় আনা উচিত। তাহলে সর্বস্তরের জনগণ স্বস্তি অনুভব করবে। কারণ, তারা এখনো দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতেও তারা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
বিচারে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসবাদী আদর্শ নির্মূল সম্ভব হতো, নিষিদ্ধ করে নয় মন্তব্য করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেছেন, স্বৈরাচারের সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেসব দমন-পীড়ন ও অপকর্ম করেছে, সেই প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সমাজে এটা প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ রয়েছে যে ‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি’র কথা বলে ক্ষমতার প্রতি মূর্খ আনুগত্য, সন্ত্রাস ও পশ্চাৎপদতার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীরা কোনোভাবেই শাস্তি এড়াতে পারে না। এই প্রক্রিয়ায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসবাদী আদর্শ নির্মূল করা সম্ভবপর হতে পারে। নিষিদ্ধ করে তা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে।
আপনার মন্তব্য