সিলেটটুডে ডেস্ক

২৩ মে, ২০২৫ ২১:৪২

কেউ অপরিহার্য নয়: ইউনূস প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন

বিএনপি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ চায়নি বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস যদি থাকতে না চান তবে জাতি বিকল্প খুঁজবে।

শুক্রবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা তো একটা রোডম্যাপ চেয়েছিলাম নির্বাচনের, আমরা তো উনার পদত্যাগ চাইনি।”

সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা পদত্যাগ চেয়েছি সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য দুইজন ছাত্র প্রতিনিধির এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, যিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যে ইস্যু আমাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং আমাদের একটা অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে, সেরকম কিছু নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কিছু কথা বার্তার কারণে উনার অব্যাহতি চেয়েছি। উনার কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে।”

মুহাম্মদ ইউনূস সরকারপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন বলে বৃহস্পতিবার দিনভর গুঞ্জন ছিল। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিনি এমন কথা বলেছেন বলে খবর বের হয়। পরে সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যমুনায় যান। সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করে তারা তাকে পদত্যাগ না করার আহ্বান জানান। নাহিদ পরে বিবিসি বাংলাকে এ তথ্য জানান।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “তিনি যদি দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান, সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে একান্তই যদি তিনি ছেড়ে দিতে চান তাহলে জাতি বিকল্প বেছে নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়।”

প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের ‘ইচ্ছার’ কথা চাউর হলে অনেকে বিএনপিকে এরজন্য দোষারোপ করেন।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার কাছে আমরা ক্রমাগত দলীয়ভাবে বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎ করে উনাকে বুঝিয়েছি যে আপনি একটা নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রদান করেন। তাহলে রাজনীতিতে একটা স্থিতিশীলতা আসবে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে (ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আইনে) শান্ত পরিস্থিতি বা স্থিতিশীলতা আসবে। উনি আমাদের বারবারই আশ্বাস দিয়েছেন এবং শেষবার আমাদের হতাশ করেছেন।”

“উনি উনার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়েছেন। উনি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তার সরকারের সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এই কথা তিনি আমাদের জানিয়েছেন গতবারের বৈঠকের আগের বৈঠকে।”

বিএনপি নির্বাচনের কথা বললেও প্রধান উপদেষ্টা সেদিকে ‘নজর’ দেয়নি অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “তারপর আমরা আশা করেছিলাম উনি উনার পক্ষ থেকে জাতির কাছে জানাবেন, নির্বাচন কমিশনে অফিসিয়ালি জানাবেন। কিন্তু সেটা আমরা দেখিনি। আমরা দেখলাম কয়েকজন উপদেষ্টার কয়েক রকম বক্তব্য, বিভিন্ন পক্ষের বিভিন্ন রকম আচরণের মধ্য সরকারের মেয়াদ যেন দীর্ঘায়িত হয় এবং নির্বাচন পরিস্থিতি যেন অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে যায়, সেরকম পরিস্থিতি আমরা লক্ষ্য করলাম।”

“সে কারণে আমরা আবার উনার সাথে সাক্ষাৎ করলাম, কিন্তু উনি আমাদের কথা রাখতে চাননি। উনি নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে বারবার বলেছেন ডিসেম্বর থেকে জুনে। এটা একটা অনির্দিষ্ট কথা। তিনি এখন মনে করছেন, তিনি বিভিন্ন কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।”

বিএনপি এই দেশের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা অনেকবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলাম, বিরোধী দলে ছিলাম। আমাদের আন্দোলন, ইতহাস-ঐতিহ্য আছে। এনসিপি একটি নবগঠিত রাজনৈতিক দল, যার এখনও রেজিস্ট্রেশনও নাই। সুতরাং বিএনপির সাথে তুলনা করাটা ঠিক হবে না। আমি আবার কাউকে ছোট করতে চাচ্ছি না। তারা তাদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তাদের মতো কর্মসূচি পালন করতিই পারে।”

“তবে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা, নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির দলীয় সংগঠনের মতো কি জানি একটা বক্তব্য দিয়েছে যে, এটা বিএনপির বর্ধিতাংশ বা এটার নিরপেক্ষতা নাই। কি জানি একটা বলেছে। এই বক্তব্যগুলো আমরা খণ্ডন করি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সার্স কমিটি করে, এই সার্স কমিটি সবার কাছ থেকে নাম নিয়েছে, আমরাও দিয়েছি। তার মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে কেউ কোনো সন্দেহ প্রকাশ করেনি, নিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি এতোদিন। ইশরাক হোসেনের বিষয়টা আদালতের রায় প্রকাশের মাধ্যমে মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশে বাধ্য হয়েছে।”

“আদালতের রায় তারা মানতে অবশ্যই বাধ্য। সেই গেজেট নোটিফিকেশন করার পর থেকেই এনসিপির পক্ষ থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে, সেটা সঠিক নয়। ইশরাক হোসেন আদালতের রায় পেয়েছে শপথ গ্রহণের পক্ষে। এখন সরকার যদি না মানে তাহলে কি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে?”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত