সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ আগস্ট, ২০২৫ ২০:২৬

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না: নাসীরুদ্দীন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। সে সময় নির্বাচন হলে—যারা শহিদ হয়ে কবরে আছেন, তাদের জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যে ভাইটি হাত হারিয়েছে, তার হাত ফিরিয়ে দিতে হবে। এ সময় তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাটওয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ছাড় পাবে না। জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দেশবিরোধী কিছু করতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে কিছু নেতা টাকার কাছে বিক্রি হচ্ছে। গণমাধ্যমের সম্পাদকরা দালালি করছেন। আগে ছিল হাসিনা মাধ্যম। এখন কী মাধ্যম তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এনসিপির এই নেতা বলেন, সামনে কোনও আয়নাঘর করলে ডিজিএফআইয়ের হেডকোয়ার্টার ভেঙে ফেলব। দেশে দালাল ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ধরে এনে বিচার করতে হবে। জুলাই সনদ আমাদের সন্তানের জন্য ভালো হবে।

যুব সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বক্তব্য দেন।

অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছর রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে। নির্বাচন কমিশনও ফেব্রুয়ারিতে ভোট করতে এর দুই মাস আগে সূচি ঘোষণার কথা বলেছে।

দ্রুত নির্বাচনের দাবি করে আসা বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। পরে জামায়াতও ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে তাদের আপত্তি না থাকার কথা বলেছে।

তবে সংস্কার ও অভ্যুত্থান ঠেকানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার না হওয়ার আগে নির্বাচনের বিরোধিতা করে আসছে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি। অভ্যুত্থানের নেতাদের নিয়ে গঠিত দলটি নির্বাচনের আগে এ দুই দাবির বাস্তবায়ন চেয়ে আসছে।

মঙ্গলবারের যুব সম্মেলনে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন আবারও নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার ও অভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনায় বিচারের কথা বলেন।

একই ধরনের সংস্কৃতিতে নির্বাচন হলে মানুষ কেন আহত-নিহত হল সে প্রশ্ন তুলে বলেন, “একই সংস্কৃতির ডামাডোলে, একই ফ্যাসিবাদী সংবিধানে, একই সিস্টেমের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। তাহলে এতগুলো মানুষ শহিদ হবার প্রয়োজন কি ছিল? এতগুলো মানুষ আহত হবার প্রয়োজন কি ছিল?”

সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম আগে ছিল ‘হাসিনামাধ্যম’, এখন কি মাধ্যম সেটা বললে চাকরি থাকবে না। গণ-অভ্যুত্থানের পরে সকল মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে বসেছিলাম, তাদেরকে একটা কথা বলেছিলাম, যা আকাম করেছেন, ঘরের ভিতরে বসে থাকেন।

“যদি লজ্জা থাকে, ঘরের ভেতর থেকে বের হবেন না। কিন্তু তাদের লজ্জা নাই। তারা বারবার বাংলাদেশের মানুষদের ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে।”

আয়নাঘর ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাজের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, “একটা গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে-ডিজিএফআই আপনার আমার পকেটের টাকায় চলাফেরা করে। তারা কত টাকা খরচ করে বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারবে না। তাদের কোনো দায়িত্ববোধ নাই, জবাবদিহি নাই, স্বচ্ছতা নাই।

“তাদের একটাই কাজ, মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করে–কিছু হলেই আয়নাঘরে তুলে নিয়ে আসব। আপনার আয়নাঘর আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি।

“সামনে যদি একই ধরনের প্রচেষ্টা করা হয়, আমরা আয়নাঘর কেন, ডিজিএফআইয়ের হেডকোয়ার্টার আমরা ভেঙ্গে দেব। যথেষ্ট সহ্য করেছি। বাংলাদেশ যদি ডিজিএফআই থাকতে হয়, অবশ্যই এটার সংস্কার করতে হবে।”

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় যুবশক্তির সদস্য সচিব জাহেদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত