২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৪১
লস অ্যাঞ্জেলেসের ফাইনালের মঞ্চে দেখা গেল স্পেনের একতরফা ফুটবলের প্রদর্শনী। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে শুরু করে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ওপর সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রেখে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন।
শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় স্প্যানিশরা।
২০১০ সালের পর এটি স্পেনের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
খেলার বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের দখল ছিল স্পেনের ফুটবলারদের পায়ে। ম্যাচের শুরুতেই গোল করার বড় সুযোগ হাতছাড়া করলেও স্প্যানিশরা আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে একচুলও সরেনি। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরে নেয় তারা। মাঠের মাঝমাঠ থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ—সবখানেই ছিল স্পেনের খেলোয়াড়দের দাপট। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা দল কেবল রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল, স্পেনের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে কোনো কার্যকর আক্রমণই তারা গড়তে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে আর্জেন্টিনা দলে দুটি পরিবর্তন আনা হলেও স্পেনের একতরফা আক্রমণের ধার বিন্দুমাত্র কমেনি। উল্টো ম্যাচের ৬৯ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড় মাঠ ছাড়লে তারা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। একজন বেশি থাকার সুবিধা নিয়ে স্প্যানিশরা আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না আসলেও ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতেই।
অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। স্পেনের উইলিইয়ামসের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হওয়া এবং বদলি নামা ফেরান তোরেসের একটি গোল বাতিল হওয়া সত্ত্বেও স্পেনের আক্রমণের তীব্রতা কমেনি।
অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শেষভাগে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপান স্পেনের বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস।
পুরো ম্যাচজুড়ে একতরফা খেলে যাওয়া স্পেনের এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্প্যানিশরা।
আপনার মন্তব্য