২০ জুলাই, ২০২৬ ০৫:০৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে লস অ্যাঞ্জেলেসের মঞ্চে দেখা গেল এক চরম বৈপরীত্য। একদিকে স্পেনের চোখ ধাঁধানো আক্রমণাত্মক ফুটবল, আর অন্যদিকে নিজেদের ছায়া হয়ে থাকা এক বিবর্ণ আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচ জুড়ে স্পেনের একতরফা আধিপত্যের সামনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো ১২০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটি অনটার্গেট শটও নিতে পারেনি।
আর্জেন্টিনার এই ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় ১-০ গোলে ম্যাচ জিতে নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন।
পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে কতটা একতরফা ছিল এই ফাইনাল। পুরো ম্যাচে যেখানে স্প্যানিশরা আর্জেন্টিনার গোল লক্ষ্য করে ২০টি শট নেয়, যার মধ্যে ১১টিই ছিল অনটার্গেট শট; সেখানে আর্জেন্টিনার শট ছিল মাত্র ৩টি, যার একটিও স্পেনের গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
এমনকি প্রথমার্ধে দুই দল মিলে গোলমুখে নিয়েছিল মাত্র ৩টি শট, যা ১৯৬৬ সালের পর থেকে যেকোনো বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে সর্বনিম্ন।
একই সঙ্গে ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার মতো দল প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শটই নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
খেলার ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার বল দখলের হার ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন বল দখলের রেকর্ড।
পুরো ম্যাচে স্পেনের নিখুঁত ৮০৩টি পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনা দিতে পেরেছে মাত্র ৪৪৫টি পাস।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেন শুরু থেকেই ছিল অপ্রতিরোধ্য। কেপ ভার্দের বিপক্কে একতরফা ম্যাচে ড্র দিয়ে শুরু করে এরপর তারা একে একে হারিয়েছে সৌদি আরব, উরুগুয়েকে। নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ দলগুলো ছিল অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও ফ্রান্স। প্রত্যেকটি দলের বিপক্ষে আধিপত্য বজায় রেখেছে খেলেছে স্পেন। তবে প্রতিটি দলই গোলপোস্টে অনটার্গেট বল রাখতে পেরেছিল। কিন্তু পারেনি কেবল আর্জেন্টিনা। এই বিশ্বকাপে স্পেনের গোলমুখে কেপ ভার্দে ৯০ মিনিটে ৬ শট, সৌদি ৩ শট, উরুগুয়ে ৬ শট, অস্ট্রিয়া ৫ শট, বেলজিয়াম ৫ শট, পর্তুগাল ও ফ্রান্স ১০টা করে শট নিয়েছিল!
স্পেনের এই দমবন্ধ করা একতরফা আধিপত্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ—ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বল স্পর্শ করেছেন তাদের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক স্পেনকে হতাশায় পুড়িয়েছেন বারবার।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ কোনোমতে রুখে দিলেও ম্যাচের শেষ ভাগে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় আরও বড় চাপে পড়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। একজন কম নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে খেলার পর তাদের রক্ষণভাগের প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্থের ১১৬তম মিনিটে এসে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে গোল করে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের পর বাকি সময়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
আপনার মন্তব্য