স্পোর্টস ডেস্ক

৩০ জুন, ২০১৮ ১৮:৫৯

পরিসংখ্যানে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা লড়াই

রাশিয়া বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বের প্রথম লড়াইয়ে আজ ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে মেসির আর্জেন্টিনা। বিগত পরিসংখ্যান পেছনে ফেলে বর্তমান চিন্তা করলে আর্জেন্টিনার চেয়ে শক্তিমত্তায় অনেকটা এগিয়ে ফরাসিরা। তাদের বাঘা বাঘা ফুটবলরারদের সামনে আর্জেন্টাইনদের মূল ভরসার নাম মেসি।

পরিসংখ্যানে ফ্রান্সের চেয়ে অনেক এগিয়ে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কখনো জিততে পারেনি ফ্রান্স। প্রীতি ম্যাচেও আর্জেন্টাইনদের জয়ের সংখ্যা বেশি। দুই দলের লড়াইয়ের রেকর্ড ও পরিসংখ্যান সবই ল্যাটিং আমেরিকার দেশটির পক্ষে।

বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হয়েছিল দুবার। ১৯৩০ ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপে। দুটি বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনা ফাইনালে গিয়েছিল। এর মধ্যে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে তো ঘরে এসেছিল শিরোপা। আর্জেন্টিনার প্রথম শিরোপা। অবশ্য ফ্রান্সের সঙ্গে বিশ্বকাপে আগের দুবারই গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। এবারই প্রথম দেখা হয়ে যাচ্ছে নকআউট পর্বে।

শুধু বিশ্বকাপের মঞ্চেই নয়; প্রীতি ম্যাচের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা ঢের এগিয়ে আছে ফ্রান্সের চেয়ে। নয়টি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছে মাত্র দুবার। চারটিতে জিতেছে। বাকি তিন ম্যাচ ড্র।

আর্জেন্টিনা আরেকটি তথ্যে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেতে পারে। ১৯৮৬ সালের পর কখনো ফ্রান্সের কাছে তারা হারেইনি। অবশ্য এরপর দুই দলের দেখাই হয়েছে দুবার। সর্বশেষ দেখা ২০০৯ সালে। গত ৯ বছরে দুই দলের কোনো ম্যাচ হয়নি।

এই ফ্রান্সও এখন অন্য এক দল। তারকা আর প্রতিভার কমতি নেই। আর আর্জেন্টিনা উঠেছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তবে এ-ও সত্যি, গত ম্যাচটাই হয়তো মানসিকভাবে বেশি এগিয়ে রাখবে আর্জেন্টিনাকে। যদিও শক্তি ও সাম্প্রতিক ফর্মের বিবেচনায় সবাই ফ্রান্সকেই মানছে ফেবারিট।

দেখে নেয়া যাক দুই দলের পরিসংখ্যান:

# এর আগে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে। আর্জেন্টিনা জিতেছে ছয় বার, ফ্রান্স দুই বার। ড্র হয়েছে তিনটি ম্যাচ।

# তবে কখনো কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি ফ্রান্স।

# মুখোমুখি হওয়া ১১ ম্যাচের আটটিতেই আর্জেন্টিনার জালে বল জড়াতে পারেনি ফরাসিরা।

# ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে লাতিন পরাশক্তি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জিতে ফ্রান্স।

# পেনাল্টি শুট আউট বাদ দিলে বিশ্বকাপের নক আউট পর্বের শেষ ১১ ম্যাচে ফরাসিদের হার মোটে একটি। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে একমাত্র হারটি ১-০ গোলে।

# বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ১৩ উপস্থিতির মধ্যে ১২ বারই নূন্যতম শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। একমাত্র ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যায় লাতিন পরাশক্তিরা।

# বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে এর আগে ৬৬৬ মিনিট খেলে কোনো গোল করতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অবশ্য ফ্রান্সের বিপক্ষে সবশেষ গোলের দেখা পাওয়া আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় তিনিই। ২০০৯ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে ফরাসিদের বিপক্ষে গোল করেছিলেন বার্সেলোনা তারকা, দল জিতেছিল ২-০ গোলে।

# ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে দেখা যেতে পারে পিএসজির পাঁচজন খেলোয়াড়কে। ফ্রান্স দলে আছেন লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নদের তিন সদস্য - কিলিয়ান এমবাপে, আলফুঁস আরিওলা ও প্রেসনেল কিম্পেম্বে। আর্জেন্টিনায় আছেন আরও দুজন, আনহেল দি মারিয়া ও জিওভানি লো সেলসো। অবশ্য দি মারিয়া ও এমবাপে বাদে বাকিদের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা সামান্যই

# আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ গোল করেছেন লিওনেল মেসি। আর সর্বোচ্চ ১৪৬ ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন হাভিয়ের মাসচেরানো। দুজনেই আছেন এবারের বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা দলে।

# আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড গনসালো হিগুয়াইন দেশের হয়ে নিজের শেষ আট ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি।

# আর্জেন্টিনার ছয়জনের (এভার বানেগা, গাব্রিয়েল মের্কাদো, হাভিয়ের মাসচেরানো, লিওনেল মেসি, মার্কোস আকুনা ও নিকোলাস ওতামেন্দি) ও ফ্রান্সের তিনজনের (পল পগবা, ব্লেইস মাতুইদি ও কোরোঁতাঁ তোলিসো) একটি করে হলুদ কার্ড রয়েছে। শেষ ষোলোতে একটি হলুদ কার্ড পেলেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন তারা।

# ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৭৯ ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন রেমোঁ ডমেনেক ও দিদিয়ে দেশম। শেষ ষোলোতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালনের রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেবেন দেশম।

# গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে তিনটি গোল করেছে ফ্রান্স যার একটি এসেছে স্পট কিক থেকে ও আরেকটি আত্মঘাতী। হজম করেছে এক গোল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত