নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ অক্টোবর, ২০১৫ ০৩:৪৯

‘ধর্মীয় রক্ষণশীলতায়’ জন্মনিরোধক ব্যবহারে তলানিতে সিলেট

আর্থিক সচ্ছলতা ও উন্নয়নের দিক থেকে সিলেট দ্রুত বিকাশমান বিভাগ হলেও জন্মনিরোধক কম ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে পিছিয়ে আছেন এ অঞ্চলের নারীরা। রক্ষণশীলতা ও স্বল্প শিক্ষার কারণে সিলেটের বিবাহিত নারীরা অন্যান্য বিভাগের নারীদের তুলনায় জন্মনিরোধক ব্যবহারে পিছিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ জন্মসংখ্যা ও স্বাস্থ্য জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগ অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র্য হওয়ার পরও এ অঞ্চলের বিবাহিত নারীদের মাঝে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ব্যবহারের আধিক্য দেখা যায়।

বিডিএইচএস-২০১৪ এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজশাহী অঞ্চলের ৬৯.৪ শতাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ব্যবহার করেন। আর রংপুরে ৬৯ এবং খুলনায় ৬৭.১, ঢাকায় ৬৩, বরিশালে ৬৩.৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগ ৫৫ শতাংশ ব্যবহার করেন। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা সিলেট বিভাগের মাত্র ৪৭.৮ শতাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রকারী সামগ্রী ব্যবহার করেন।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নূর হোসেন তালুকদার বলেন, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা এবং দূর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সিলেট অঞ্চলে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ব্যবহারের শতকরা হার নীচের দিকে।

নূর হোসেন আরো বলেন, তবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ব্যবহারের হার উৎসাহজনক। ১৯৭৫ সালে মাত্র ৮ শতাংশ বিবাহিত নারী জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ব্যবহার করত, যা বর্তমানে গড়ে ৬২ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক পারভীন ফাতেমা বলেন, ১৯৯৩-১৯৯৬ সালে ৪৫ শতাংশ, ১৯৯৯-২০০০ সালে ৫৪ শতাংশ, ২০০৪ সালে ৫৮ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৫৬ শতাংশ, ২০১১ সালে ৬১ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৬৩ শতাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করত।

আন্তর্জাতিক প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ (এফআইজিও) এবং বাংলাদেশ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ সোসাইটি (ওজিএসবি) যৌথভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণে আইইউডি ব্যবহারে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই আইইউডি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত