০৯ অক্টোবর, ২০১৫ ১৪:২৬
দক্ষিণ আফিকায় সন্ত্রাসী হামরায় নিহত বাংলাদেশী’র মরদেহ দেশে এসেছে। আজ (শুক্রবার) ভোরে পরিবারের লোকজন স্ব-উদ্যোগে মরদেহটি সিলেটের টুলটিকরে বাসভবনে নিয়ে আসেন। তবে এখনো সরকার, প্রশাসন বা প্রবাসী কল্যান সংশ্লিষ্ট কেউ তাদের খোঁজ নেননি বলে জানান নিহতের পরিবারের লোকজন। কেবল আজ সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ লাশ দেখতে এসেছিলেন।
স্বজনেরা জানান, গতরাতে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৪ ফ্লাইটে লন্ডন থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌছায় নিহত জুনেলের মরদেহ। সেখান থেকে স্বজনেরা এম্বুলেন্সযোগে লাশ নিয়ে শুক্রবার ভোরে সিলেট এসে পৌঁছান।
স্থানীয় টুলটিকর জামে মসজিদে বাদ জুম্মা জানাযা শেষে মানিক পীরের মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে তাকেঁ দাফন করা হয়। সকালে মরদেহ বাসায় আসলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জুনেলের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনেরা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসী হামলায় জুনেল নিহতের পর সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পরও সরকার সংশ্লিষ্ট কেউ এখনো পরিবারটির সাথে যোগাযোগ করেননি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি প্রবাসীকল্যান সেল থাকলেও তারাও নিশ্চুপ। যদিও একইসময়ে বাংলাদেশে দুই বিদেশী খুন হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। এই দুই বিদেশী নাগরিকের স্ব স্ব দেশের সরকার হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ প্রয়োগ করছে। অথচ বিদেশে বাংলাদেশী খুন হলেও বাংলাদেশ সরকারের এ ব্যাপারে কোনাে বিবৃতিও নেই।
সরকারের কেউ তাদের সাথে যোগাযোগ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। নিহত জুনেলের চাচাতো ভাই সেলতাজ আহমদ বলেন, আমরা টাকা পয়সা চাই না। কেবল ভাই হত্যার বিচার চাই। এ ব্যপারে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা না চালালে বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। অথচ সরকার আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগই করেনি।
গত ১২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার আফিটন শহরে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ অক্টোবর সে দেশেই মারা যান সিলেটের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মীর কাশেম জুনেল।
আপনার মন্তব্য