Advertise

তাহিরপুর প্রতিনিধি

২৩ মে, ২০২০ ১৩:৫৫

টাঙ্গুয়ার হাওরে উজার হচ্ছে নলখাগড়া, হিজল-করচ গাছ

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধভাবে উজার হচ্ছে নলখাগড়া, হিজল, করচ গাছসহ হাওরের পাখি, মাছ ও জলজ প্রাণী। এসব রক্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ৪টি আনসার ক্যাম্প (মুজরাই, গোলাবাড়ি, রামসিংহপুর, রংসী) থাকলেও বিশাল অভয়াশ্রমের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

টাঙ্গুয়ার হাওর তদারকির জন্য বরাবরই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও গত ৪ মাস যাবত হাওরে ম্যাজিস্ট্রেটের পদ শূন্য। ফলে হাওর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ও আনসার বাহিনীর দায়িত্বহীনতার কারণে একদিকে হাওরে চলছে মৎস্য, পাখি, পোনামাছ নিধন। অপর দিকে বনবৃক্ষ উজারকরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে একসময় লাখো মানুষকে আকৃষ্ট করলেও এখন দিন দিন মানবসৃষ্ট নৃশংসতার কবলে পড়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়াসহ জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর প্রকৃতি হচ্ছে অর্ধনগ্ন। এছাড়াও হাওরে প্রতি বছর উজান থেকে আসা হাজার হাজার গরুর বিচরণ করায় হাওরে নতুন করে কোনো জলজ উদ্ভিদ জন্মাতে পারছে না। আর হাওরের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম থেকে বন বৃক্ষখেকো কিছু অসাধু লোকজন দিনে-দুপুরে অবাধে হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় মূল্যবান হিজল, করচ ও অন্যান্য বনজ বৃক্ষ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে সময়ে-অসময়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এখন হাওরের বনাঞ্চল কেটে নিয়ে নিজেরা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন বাজারে বিক্রিও করছে।

সাবজল আহমেদ, নিরব হাসানসহ সচেতন হাওরবাসী জানান, বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গোবরের চট ব্যবহার করে বা অন্য কোনভাবে জ্বালানির চাহিদা মেটানো যেত। কিন্তু তা না করে টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে বনাঞ্চল ধ্বংস করে দিচ্ছে হাওরপাড়ের কিছু বাসিন্দারা। হাওরের সুরক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের সহযোগিতায় সমন্বিত পরিকল্পনা করে হাওরপাড়ের মানুষের জনজীবন ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষাসহ উন্নয়নের আয়তায় আনতে সুষ্ঠু পরিকল্পনা খুবই প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের এই বন বৃক্ষ নিধনের ব্যাপারে আমি অবগত না। যদি তারা এই কাজটি করে থাকেন তাহলে তারা অন্যায় করছেন। হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে থাকা কমিউনিস্ট গার্ডের সভাপতি মনির মিয়া বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর তদারকির জন্য বরাবরই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও গত ৪ মাস যাবত হাওরে ম্যাজিস্ট্রেটের পদ শূন্য। যার ফলে আমি হাতে গোনা ৪-৫ জন সদস্য নিয়ে পুরো হাওর তদারকি করতে হিমশিম খাচ্ছি। আর হাওরে বন ধ্বংসের বিষয়টি আমার নজরে না আসায় আমি কিছু বলতে পারছি না।

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যনার্জি জানান, টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রয়েছে। এরপরও যারা টাঙ্গুয়ার হাওরের ক্ষতি করার কাজে লিপ্ত রয়েছে- নলখাগড়া গাছ কেটে নিচ্ছে এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনও অন্যায়কেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত