সিলেটটুডে ডেস্ক

০৬ জুন, ২০২৬ ০৩:৪০

খলিলুর রহমানের প্রতি আস্থা আনার আগে অবশ্যই দশবার ভাবতে হবে: উবায়দুল্লাহ ফারুক

বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের প্রতি আস্থা আনার আগে দশবার ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শুক্রবার (৫ জুন) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. খলিলুর রহমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৫ আসন থেকে নির্বাচন করেন।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক লিখেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব ড. খলিলুর রহমান। নিঃসন্দেহে বিশ্বমঞ্চে এটি বাংলাদেশের মত একটি রাষ্ট্রের জন্য বেশ বড় অর্জন এবং বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য। আমরা এই অর্জনকে প্রাণ ভরে উদযাপন করতে পারতাম। কিন্তু যখনি আমরা এই অর্জনকে উদযাপন করতে যাই তখনি আমাদের মনে যেন এক অজানা শঙ্কা এবং আতঙ্ক এসে ভর করে। কারণ আমরা জানি এই জাতিসংঘকে যতই বলা হোক যে, এটি বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ, কিন্তু আদতে এই সংস্থাটি এখন পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তল্পিবাহক ও স্বার্থরক্ষার ভ্যানগার্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি লিখেন, সুতরাং এই সংস্থার কোন শীর্ষ পদে কেউ বসেছেন আর তার সাথে সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি আমেরিকার কোন স্বার্থ নেই, একথা বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বলা প্রায় অসম্ভব। এজন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বাংলাদেশের বসার খবর আমদেরকে পুলকিত করার আগে অজানা এমন আরও নানান শঙ্কা আমাদেরকে থমকে দেয়। বিশেষত: ব্যক্তি খলিলুর রহমানের কর্মকাণ্ডের প্রতি আস্থা আনার আগে আমাদেরকে তো অবশ্যই দশবার ভাবতে হবেই। কারণ বিগত ইন্টারিম গভমেন্টের সময় এই খলিলুর রহমানের হাত ধরেই আমেরিকার সাথে বাংলাদেশ এমন এক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, যেই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অন্তহীন দাসখতের ফাঁদে পতিত হয়েছে।

উবায়দুল্লাহ ফারুক লিখেন, আমাদের তো ভয় হয়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসন লাভের মধ্যদিয়ে সেই চুক্তির পুরস্কারই পেলেন কিনা ড. খলিলুর রহমান! আল্লাহ না করুক, এই সভাপতির আসন প্রাপ্তি যেন সেই জমিদারের প্রজাদের মত না হয়, যাদেরকে জমিদার ডেকে নিয়ে ভালো খাইয়ে পরিয়ে বিনিময়ে সব জমিজমা ও বাড়ি ভিটাসহ লিখে নেয়, আর প্রজারা মজাদার খাবারের ঢেঁকুর তুলে নতুন কাপড় পরে আনন্দে নাচতে থাকে।

তিনি আরও লিখেন, আমরা বাংলাদেশের এই অর্জনের উদযাপনটা আপাতত শিকেয় তুলে রাখছি। আমরা দেখবো, ড. খলিলুর রহমান সাহেব এই অর্জনের মধ্যদিয়ে বিশ্বসভা থেকে বাংলাদেশের কোন কোন স্বার্থ উসুল করে আনতে পারেন? আমাদের সমস্যাগুলোর কতটুকু সমাধান করতে পারলেন? রোহিঙ্গা সংকটের কতটুকু সমাধান হলো? প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক উসকানি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ, সীমান্তে আগ্রাসন ও তাদের অন্যায় আচরণগুলো বিশ্বসভায় কতটুকু তুলে ধরতে পারলেন? আমেরিকার সাথে কৃত চুক্তি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারলেন?

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় এ সভাপতি লিখেন, এসবকিছু বিবেচনা করে যেদিন আমরা ইতিবাচক কিছু দেখতে পাব সেদিনই এই অর্জনকে আমরা স্বার্থকভাবে উদযাপন করব। অন্যথায় এই প্রাপ্তি এই জাতির কপালে সাম্রাজ্যবাদীর গোলামীর তিলক হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। আমরা আশা করব, সেই কলঙ্ক যেন আমাদের ভাগ্যে না জুটে। জাতির জন্য যেন ভালো কিছুই অর্জিত হয়, মহান রবের দরবারে সেই প্রত্যাশাই করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত