Advertise

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ মে, ২০২০ ১৬:০৩

রেমা চা বাগানের ৪৮০ অসহায় পরিবারের পাশে উৎস

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া চা শ্রমিক সন্তানদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদ (উৎস) ত্রাণ উপহার দিল দীর্ঘ ২ মাস ১৮ দিন ধরে বন্ধ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের রেমা চা-বাগানের চা শ্রমিকদের। ৪৮০টি অসহায় ও কর্মহীন পরিবারের মুখে হাসি ফুটালো বিভিন্ন চা বাগানের এই চা শ্রমিক সন্তানরাই।

এ উদ্যোগকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন তবে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন নিজে উপস্থিত থেকে এইসব চা শ্রমিক সন্তানদের উৎসাহ দিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন ও অসহায় মোট ৪৮০ পরিবারকে ১৮ কেজি করে খাদ্যদ্রব্য উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়। এর ভিতরে ১০ কেজি চাল, আটা ৩ কেজি, ডাল ১ কেজি, পিয়াজ ১ কেজি, তেল ১ লিটার, আলু ২ কেজি। এছাড়া মুসলিম পরিবারদের জন্য চিনি ও সেমাই বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার দিনব্যাপী বণ্টন কর্মসূচি শেষ করা হয়। তারা এই উদ্যোগটির নাম দেন উৎসর্গ।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় চা-ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ রাজভর কিরণ বলেন, কিছু পীড়িত চা শ্রমিকের পাশে দাঁড়াতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের একজন কর্মী হিসেবে গর্ববোধ করছি। প্রায় ৩ মাস থেকে রেমা চা বাগানের শ্রমিকেরা তাদের মজুরি পাচ্ছে না। যাদের প্রতিদিনের মজুরি ১০২ টাকা তাদের সঞ্চয় বলে কিছু থাকে না। তাদেরকে পূর্ণ সহায়তা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তবুও আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল রেমা চা বাগানের জন্যে কিছু করার। আর সেই চেষ্টার নামই ছিল উৎসর্গ। কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের আমেরিকা প্রবাসী সিনিয়রদের প্রতি, ধন্যবাদ উৎসবকে বিশেষভাবে সজিব সাহা দাদাকে।

তিনি আরও বলেন, কৃতজ্ঞতা জানাই বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েতকে, শ্রমিকদেরকে, সিনিয়র, জুনিয়র ভাইবোন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা আর্থিক, মানসিকভাবে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। উৎস থেকে শুরু করে রেমা চা বাগানকে উৎসব মুখর পরিবেশে উৎসর্গ করা হলো উপহার। বিশেষ কৃতজ্ঞতা ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ভাইকে, উনার মাধ্যমে সারা দেশ রেমা চা বাগানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানবে। জয়তু মানবতা।

বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের সভাপতি জ্যোতির্ময় কানু বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য চা বাগানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদ। এই দেশের সকল চা বাগানে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া চা বাগানের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমরা বিভিন্ন কাজ করে থাকি।

রেমা চা বাগানের বর্তমান সময়ের যে ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে মজুরি রেশন না পেয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে জীবন কাটাচ্ছে মাত্র ১০২ টাকা দৈনিক মজুরি প্রাপ্ত শ্রমিকরা। এজন্য আমাদের সংগঠনের প্রতিটি সদস্য 'উৎসর্গ' প্রজেক্টকে সামনে রেখে টাকা সংগ্রহ করা শুরু করে।

তিনি বলেন, আমরা চাই বাগানের এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটুক এবং শ্রমিকরা নিজ নিজ কাজে ফিরে স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করুক।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, চা বাগানের মালিক এতো নিষ্ঠুর কেন? কেন চা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে রেখেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। চা বাগান চালু হওয়ার বিষয়ে সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত