জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ

০১ জুন, ২০২০ ২০:১৩

দরিদ্রতাকে জয় করে জিপিএ-৫ পেল গোলাপগঞ্জের শাহিন

শত দুঃখ-কষ্ট ও বাধা-বিপত্তি শাহিন আলমকে লেখাপড়া থেকে দূরে রাখতে পারেনি। প্রবল ইচ্ছা শক্তি অধ্যবসায় ও দৃঢ় মনোবলের কাছে হার মেনেছে দরিদ্রতা। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মীরগঞ্জে অবস্থিত আল একাডেমি থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে সে।

শাহিন আলম দুই ভাই চার বোনের মধ্যে তৃতীয়। পিতা আব্দুল জলিল একজন হত-দরিদ্র কৃষক। কৃষি কাজ করে করে সংসার চালানোই বড় দায় হলেও শিক্ষার আলো ছাড়া জীবনে সফলতা আসে না এমন ধারণা নিয়ে এই কৃষক অতি কষ্টেও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। শাহিন আলম ছাড়াও আরও ৩ বোন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

শাহিন আলম নিজেও জানে তার পিতার সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। তার উপর ছোট ভাইদের লেখাপড়া ও ভরণপোষণ চালাতে গিয়ে হত-দরিদ্র পিতা আব্দুল জলিল মাঝে-মধ্যে হিমশিম খান। কিন্তু তার পরেও শাহিন আলম মনোবলে কোন দুর্বলতার ছাপ পড়েনি। পিতার দারিদ্রতাকে জয় করে অদম্য সাহস নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে থাকে সে।

বিজ্ঞাপন

মেধাবী এই শাহিন আলম শুধু এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেনি এরপূর্বে জিএসসি পরীক্ষায়ও একই প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

ছেলে জিপিএ-৫ পাওয়ায় হত-দরিদ্র গর্বিত এই পিতার দীর্ঘশ্বাস তিনি কি পারবেন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে? তিনি ছল-ছল নয়নে আবেদনের সুরে বলেন, ছেলে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু সহায় সম্বলহীন পিতা শেষ পর্যন্ত সক্ষম হবেন কিনা এনিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

মেধাবী শিক্ষার্থী শাহিন আলম জানায়, আমার এ সাফল্যের পেছনে আমার বাবার পরিশ্রমের ঘাম রয়েছে। পাশাপাশি আমার শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। আমি লেখাপড়া করে বিসিএস ক্যাডার হতে চাই।

আলহেরা একাডেমীর সহকারী শিক্ষক এনামুল হক জানান, শাহিন আলম খুবই মেধাবী ছাত্র। তার পিতা একজন গরিব কৃষক। টাকার অভাবে যাতে তার পড়াশুনা বন্ধ না হয় সেজন্য সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত