তাহিরপুর সংবাদদাতা

১১ অক্টোবর, ২০১৫ ০১:১৩

তাহিরপুরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে চলছে দুর্গাপূজার আয়োজন

 সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন। প্রধান এই উৎসবকে কেন্দ্র করে তাহিরপুর উপজেলার সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা কে সফল করে তুলতে ইতিমধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক গন ও কারু শিল্পীরা। দেশের অন্যান্য স্থানের মত তাহিরপুর উপজেলার-তাহিরপুর সদর,বাদাঘাট বাজার,বালিজুরি,শ্রীপুর,আনোয়ারপুর,চাঁদপুর,বড়ছড়া সহ প্রতিটি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে দুর্গা পূজা কে কেন্দ্র করে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব।

সুনামগঞ্জ জেলায় সদর,জামালগঞ্জ,দিরাই,শাল্লা,জগন্নাথপুর,বিশ্বাম্ভরপুরে প্রতি বারের মত প্রতিমা তৈরিতে কারু শিল্পীরা তাদের নিজেস্ব্য শৈল্পিক সৌন্দর্যের নিখুঁত কারুকার্য প্রদর্শনে সৌন্দর্য,চাকচিক্য,ভিন্নতা মধ্য দিয়ে সর্বাধিক প্রশংসার অধিকার লাভ করার জন্য চলছে কারু শিল্পী ও মন্ডব সংশ্লিষ্টদের নীরব প্রতিযোগিতা। মণ্ডপের সাজ-সজ্জাতেও থাকছে ভিন্নতা। দেবী দুর্গার পাশা পাশি লক্ষ্মী,সরস্বতী,গণেশ,অসুর,মহিষ,কার্তিক,সিংহের মৃন্ময় মূর্তি তৈরিতে আনা হচেছ আধুনিকতার চমক। তার জন্য রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করছে সংশ্লিষ্টগন। কোন মণ্ডপে দেবী দুর্গার এ বারের আগমন ও গমনের প্রতীকী ঘটনা সহ পৌরাণিক কাহিনীকে নানা আদলে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুতের সাহায্যেও ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা চলবে দেব রাজ্যের নানা কল্প কাহিনী। কারু শিল্পীরা জানান-প্রতিমা তৈরি করা প্রায় শেষের দিকে কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ করার পর রং তুলির নিখুঁত আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলা হবে প্রকৃত অবয়ব। ফুটিয়ে তুলা হবে নাক,কান,চোখ,মুখ ইত্যাদি। এরপর শুরু হবে পোশাক পরিচ্ছদ-পরিধানের মাধ্যমে আরও আকর্ষণীর করার কাজ। এবার তাহিরপুর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের ১৮টি পূজা মন্ডবে পালিত হবে শারদীয় দুর্গা পূজা। এছাড়াও সুনামগঞ্জ জেলায় সুনামগঞ্জ সদর,জামালগঞ্জ,দিরাই,শাল্লা,জগন্নাথপুর,বিশ্বাম্ভরপুরে ২শতাধিক পূজা মন্ডবে পালিত হবে দুর্গাপূজা। প্রতি বছরের মত এবারও দুর্গা পূজাকে শান্তিপূর্ণ,সুশৃঙ্খল ও উৎসব মুখর করার জন্য উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটি সহ স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,পৌর মেয়র,উপজেলা প্রশাসন,জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ।

প্রতি বছর নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা-উপজেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এবারও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সর্বাত্মক  সাহায্য,সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। সুনামগঞ্জ ৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ জানান-হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান এই উৎসব কে আনন্দমূখর ও সার্থক করতে আমরা পক্ষ থেকে সর্বাত্নক চেষ্টা করা হবে। আশা করি এবারের দুর্গা পূজা আনন্দ মুখর হবে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা সুশৃঙ্খল ও শান্তি পূর্ণ রাখতে আমার উপজেলা পরিষদ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। তাহিরপুর থানা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন-দুর্গা পূজায় উপজেলার সর্বত আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কেউ যদি বিশৃঙ্খলা কারে সে যেই হউক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত