দেবকল্যাণ ধর বাপন

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:২১

সিলেটে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আসছেন গ্যাসের ৫০ হাজার গ্রাহক

গৃহস্থালি পর্যায়ে ব্যবহৃত গ্যাসের অপচয় রোধ এবং গ্যাসের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষে সিলেটে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড (জেজিটিডিএসএল) অধিভুক্ত এলাকায় আপাতত ৫০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এই প্রকল্প পেট্রােবাংলায় জমা দেয় জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। কয়েকদফা যাছাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি পেট্রোবাংলা থেকে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন দ্রুতই এই প্রকেল্পর অনুমোদন পাওয়া যাবে। চলতি বছরই প্রকেল্পর কাজ শুরু করতে চান তারা।

জেজিটিডিএসএল'র কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সাল থেকে এই প্রকল্প ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। যা বাস্তবায়ন হলে প্রতিটি আবাসিক গ্রাহকের মাসিক গড় গ্যাস ব্যবহার ৬৬ ঘনমিটার থেকে ৪০ ঘনমিটারে নেমে আসবে। ফলে গ্রাহকপ্রতি গ্যাস সাশ্রয় হবে গড়ে ২৬ ঘনমিটার। গ্যাস বিতরণ লাইন লিকেজজনিত অপচয়ও রোধ হবে।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ মোল্লা বলেন, প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে গ্যাস অপচয় রোধ করা যাবে। গ্রাহকদেরও অতিরিক্ত বিল প্রদান করতে হবে না।

বিজ্ঞাপন



বর্তমানে জালালাবাদ গ্যাসের প্রায় ৩ লাখ আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন। প্রথম অবস্থায় ৫০ হাজার গ্রাহকদের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

জেজিটিডিএসএল সূত্র জানায়, ১১৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের কার্যকর সরবরাহ ও ব্যবহারের মাধ্যমে গ্যাসের অপচয় রোধ করা যাবে। সাশ্রয়কৃত গ্যাস নতুন নতুন শিল্প কারখানায় ব্যবহার করা সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় ডাটা সেন্টার ও ডাটা রিকোভারি সেন্টার এবং প্রয়োজনীয় ওয়েব সিস্টেম হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার স্থাপন করবে সরকার।

এ ব্যাপারে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী সৈয়দ ফজলুল হক সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘সিলেট শহরে প্রকল্পের আওতায় ৫০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করা হবে। তবে প্রথমে সিলেট নগরীর উপশহর এলাকার গ্রাহকদের এ সেবা দেয়া হবে। পরবর্তীতে পুরো সিলেটই এই প্রি-পেইড মিটারের আওতায় চলে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে গ্রাহকের প্রতি মাসের খরচও কমবে। গ্যাসের জন্য এখন প্রতি মাসে গ্রাহক খরচ করছে ৯৭৫ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে গ্রাহক ১০০০ হাজার টাকায় গ্রাহক তিন মাস গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন। যা মাসে খরচ পরবে ৩০০ টাকার মতো। এছাড়া গৃহস্থালি পর্যায়ে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকদের মধ্যে গ্যাস ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনিটরিং ব্যয়ও কমবে।’

বিজ্ঞাপন



জালালাবাদ গ্যাসের এ কর্মকর্তা সিলেটটুডেকে আরও বলেন, সিলেটে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হচ্ছে। যার ফলে বেশি উপকৃত হবেন প্রবাসীরা, কেননা অনেকেই বাড়ি বানিয়ে বছরের পর বছর বিদেশে থেকে গ্যাস ব্যবহার না করেও যথাসময়ে বিল পরিশোধ করে যাচ্ছেন। যখন তারাও প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আসবেন তখন থেকে তারা গ্যাস ব্যবহার ব্যতীত আর বিল দিতে হবে না। শুধুমাত্র ব্যবহার করলেই বিল পরিশোধ করতে হবে।’

এছাড়া জালালাবাদ গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার গৃহস্থালি পর্যায়ে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হলে জিআই লাইনের লিকেজজনিত গ্যাসের ব্যয় গ্রাহককেই বহন করতে হবে। ফলে লিকেজ বন্ধ করার জন্য তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে অবহিত করবেন। গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে বলেও যোগ করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত