২৩ অক্টোবর, ২০১৫ ১৯:৫৫
কমলগঞ্জে হাবিবুর রহমান (৯) নামে এক শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার শিশু পিতা থানায় অভিযোগ করলে নির্যাতনকারীরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ছাগল চুরির অভিযোগ এনেছে। মামলা তুলে নিতেও হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত শিশুর পিতা।
গত ১৬ অক্টোবর কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নে শিশু নির্যাতনের নিত্যানন্দপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
নির্যাতিত শিশুর পিতা দেলওয়ার হোসেন বলেন, তার ছেলে হাবিবুর রহমান (৯) ব্র্যাক পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ১৬ অক্টোবর সকালে একটি কাজে প্রতিবেশী আলতা মিয়ার বাড়িতে যায়।এসময় আলতা মিয়ার ছেলে রাজু, আমিন ও মেয়ে হেলেন ও মিলন শিশুটিকে কিল ঘুষি মেরে ঘরের বারান্দার খুটির সাথে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। ঘটনার খবর পেয়ে শিশুর মা ও দাদী তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে নির্যাতনকারীরা শিশুটিকে ছাড়েননি। পরবর্তীতে শমশেরনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য তাজুদ আলী শিশুটির দঁড়ি খোলে ছাড়িয়ে আনেন।
দেলওয়ার হোসেন বলেন, তিনি ইউপি সদস্যের সামাজিক বিচারের অপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার রাতে কমলগঞ্জ থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কমলগঞ্জ থানা থেকে বের হয়ে আসার সময় দেখেন নির্যাতনকারীরা তাদের বিরুদ্ধে উল্টো চুরির অভিযোগ দিয়েছে। এর আগে শমশেরনগর ইউনিয়ন গ্রাম আদালতেও একই অভিযোগ করেছে নির্যাতনকারীরা।
ঘটনা সম্পর্কে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত আমিন আলী বলেন, বাঁশ চুরির দায়ে শিশু হাবিবকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তবে তাকে কেউ প্রহার করেনি। শিশুটির উপর গ্রামে অনেক অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়া এ ঘটনার পর শিশুর বাবা দেলওয়ার তাদের (আমিনদের) একটি ছাগল চুরি করে নেয়। সে জন্য তারা ছাগল চুরির অভিযোগ করেছে।
শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজুদ আলী বলেন, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খুটির সাথে বাঁধা অবস্থা থেকে শিশুটিকে ছাড়িয়ে আনেন। শিশুটির সবজি ক্ষেত নষ্ট করায় আমিন আলীর ছাগল খোয়াড়ে দিতে চেয়েছিলেন শিশুর বাবা দেলওয়ার, জানান ইউপি সদস্য।
শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, শিশু হাবিবকে বেঁধে রাখার ও ছাগল দ্বারা সবজি ক্ষেত বিনষ্ট করায় ছাগল আটকিয়ে রাখার বিষয়ে সিএনজি অটোরিক্সা চালক দেলওয়ার মৌখিকভাবে তাকে অবহিত করেছিলেন। তাছাড়া বাবা মাসহ শিশুর উপর ইউনিয়ন আদালতে একটি অভিযোগ গ্রহনের সত্যতাও নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: এনামুল হকের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, নির্যাতিত শিশুর পক্ষে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছেন। এ ঘটনায় অভিযোগটিকে মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
মতিউর রহমান আরও বলেন, অভিযুক্তরাও বাবা মাসহ নির্যাতিত শিশুর উপর ছাগল চুরির অভিযোগ করেছে।
আপনার মন্তব্য