২৩ অক্টোবর, ২০১৫ ২০:০৬
সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হলেও এখনও অধরা রয়েছে আসামিরা। ২৬ দিন আগে ৮ জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হলেও মামলার এজাহারনামীয় কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার জাসদ নেতা আব্দুল লতিফের সাথে হেতিমগঞ্জ এলাকার মৃত আজিজুর রহমান খানের ছেলে নুর হোসেন খান আজাদ ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে একটি রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় আব্দুল লতিফ হেতিমগঞ্জ বাজার মসজিদে নামাজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে হেতিমগঞ্জ এলাকার মৃত সোনাফর আলীর ছেলে আব্দুল মুহিত তাঁকে জরুরি কথা আছে বলে হেতিমগঞ্জ বাজারস্থ ইসলামের চায়ের দোকানের পশ্চিমের খালি জায়গায় নিয়ে যায়।
এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার উপর ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দা দিয়ে আব্দুল লতিফের মাথায় বেশ কয়েকটি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। লোহার রড দিয়ে দুই পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করে, এতে আব্দুল লতিফের বাম পা জখম হয় এবং ডান পা ভেঙে যায়। ওই সময় হামলাকারীরা আব্দুল লতিফের সাথে থাকা কোরবানির গরু কেনার ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় আব্দুল লতিফের চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় তলার ৯নং অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের ৩৯নং বেডে ভর্তি করেন।
হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত আব্দুল লতিফ বাদি হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় ৮জনের নামোলেখ করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১৪)। মামলায় আসামিরা হলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ এলাকার মৃত সোনাফর আলীর ছেলে আব্দুল মুহিত (৩৮), কোতোয়ালপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমান খানের ছেলে নুর হোসেন খান আজাদ (৩৫), একই গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম খানের ছেলে রাজু খান (২৭), মৃত নুরুল ইসলাম খানের ছেলে আব্দুল আহাদ খান (৩০), মৃত আব্দুল মালেক খানের ছেলে তানভীর আহমদ খান (১৯), মৃত আকদ্দছ খানের ছেলে ফরিদ আহমদ খান (৪৫), জায়ফরপুর গ্রামের মৃত ক্বারী কটাই মিয়ার ছেলে জুনেদ (৩৫) ও কোতোয়ালপুর গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার ছেলে দারা মিয়া (৪৬)।
মামলার অগ্রগতির ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন, মামলার ৬ আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। মামলার ১ ও ২নং আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
আপনার মন্তব্য