হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

১১ অক্টোবর, ২০২০ ১৯:৫৮

‘নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে’

হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের সাংবাদিক সম্মেলন

অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র মিজান বলেন, বুধবার (৭ অক্টোবর) সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিকদের একটি সংগঠন হবিগঞ্জ শহরের থানার সামনে এবং সার্কিট হাউজের সামনে এলোমেলোভাবে সিএনজি দাঁড় করিয়ে রেখে শহরের প্রধান সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। এই অবরোধের সাথে সড়কে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি করে সিএনজি শ্রমিকরা। এসময় তারা আমার বিরুদ্ধে নানাবিধ অপপ্রচার ও আমার সম্মানে আঘাত করে বক্তব্য দেয়। তাদের এই আচরণকে শহরবাসী সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে মন্তব্য করেছেন। সড়কে অবরোধকালে সাধারণ পথচারী ও অন্য যানবাহনে চলাচলকারী মানুষের সাথে যে অশোভন আচরণ করেছে তাতে অনেকের মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। রীতিমতো শহরবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছিল। যা সভ্য সমাজে কারো কাছে কাম্য নয়।

মেয়র বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে একতরফা খবর প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। এসব মিডিয়া এ প্রসঙ্গে আমার কোন বক্তব্য গ্রহণ করেনি। এতে আমি মর্মাহত হয়েছি। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন সাংবাদিক বান্ধব মানুষ। সাংবাদিক বন্ধুগণ যদি খবরটি প্রকাশ ও প্রচারের আগে আমার বক্তব্য নিতেন তাহলে প্রকৃত সত্যটি তারা প্রচার ও প্রকাশ করতে পারতেন। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আমি সাংবাদিকবৃন্দের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করি।

মেয়র মিজান বলেন, আমি অভিযোগকারী সিএনজি মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনের কোন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা সদস্যও নই। যেহেতু আমি সিএনজি মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনের কোন নেতা নই সেহেতু আসন্ন হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ ব্যতীত কিছুই না। সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মোতাচ্ছিরুল ইসলাম। সিএনজি মালিক শ্রমিকদের কাছে চাঁদাবাজি সম্পর্কে তিনি ভাল জানবেন। অভিযোগে যার মাধ্যমে আমি চাঁদাবাজি করি বলে অভিযোগ এসেছে তিনিও (হাবিব) সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি জনাব মোতাচ্ছিরুল ইসলাম কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি হবিগঞ্জ পৌরসভাস্থ খোয়াই নদীর উত্তরপাড় উমেদনগর প্রধান সড়কের উপর অবস্থিত সিএনজি স্ট্যান্ডটি নতুন একটি লাইসেন্স প্রাপ্ত সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতির সাথে উক্ত স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষ আলাদা হওয়ার কারণ তারাই ভাল জানবেন। উক্ত স্ট্যান্ডটি অপসারণ করে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য জেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করেছি। কেননা প্রধান সড়কের উপরে স্ট্যান্ডটি থাকায় একাধিক উপজেলার সাথে শহরের যোগাযোগ পথে যানজটের সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২৪ জুন উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ১৪ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেয়র মিজানুর রহমান মিজান । তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করার পূর্বে হবিগঞ্জ পৌরসভা নানা কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়ে আসছিল। বলতে গেলে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল হবিগঞ্জ পৌরসভা। জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো উন্নতকরণ, পৌরসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র হ্রাসকরণ, পানিসরবরাহ, বিদ্যুৎ সেবা, স্বাস্থ্য সেবা ও মশক নিধন কার্যক্রম গতিশীল করাসহ হবিগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গিকার নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন বলে জানান তিনি।

মেয়র আরও বলেন, পৌরসভার মেয়র হিসেবে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করার ফলে আমি অনেকটা প্রমাণ করতে পেরেছি যে আমার অঙ্গীকারগুলো ফাঁকাবুলি ছিল না। জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য আমি হবিগঞ্জ-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, সাবেক জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ ও বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাসহ সকলের সহযোগিতায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বড় ড্রেন সমূহকে অনেকাংশে সচল করতে পেরেছি। এই প্রচেষ্টার ফলাফল এখন পৌরবাসীর কাছে দৃশ্যমান। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও কোথাও পূর্বের মতো পানি জমে থাকেনি। তবে কিছু কিছু স্থানে উন্নয়নকাজ চলমান থাকার কারণে বৃষ্টির পানিতে সাময়িক অসুবিধা হয়েছিল যা ইতিমধ্যে অবসান হয়েছে।

আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই পৌরসভার প্রতিটি কাজে গতি সঞ্চার করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে ঢেলে সাজিয়েছি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি। শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, ফোয়ারা ও ডিভাইডারগুলোকে মনোরম করে গড়ে তুলেছি। অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, স্বাস্থ্য, পানি, বিদ্যুৎ, লাইসেন্স, বাজার নিয়ন্ত্রণ, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং ট্যাক্স-ননট্যাক্স আদায়কে গতিশীল করাসহ যাবতীয় নাগরিক সেবার মান উন্নত করেছি।

মেয়র মিজান বলেন, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি হবিগঞ্জ পৌরবাসীর কাছে আমার বিরোদ্ধে আনিত অভিযোগ বিচারের দায়ভার দিতে চাই। আমার প্রাণ প্রিয় পৌরবাসী তাদের সুচিন্তিত মতামত ও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এর যথাযোগ্য রায় দিবেন বলে আমার বিশ্বাস।

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত