১৩ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:০৬
বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, জানাই বিশ্বকে। বর্তমান সময়ে ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউবে যেখানে কিশোররা মগ্ন সেখানে হাওরপাড়ের একদল কিশোর গ্রামের মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে, বই পড়তে উৎসাহিত ও আগ্রহী করে তুলতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসছে। আর নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি গণগ্রন্থাগার। এই কাজটি করছে হাওরপাড়ের অজপাড়াগাঁয়ের কিছু উদ্যমী কিশোর।
কিন্তু এই গণগ্রন্থাগারটি আলোর মুখ দেখলেও অর্থের কারণে বই ক্রয় আর জায়গা থাকলেও ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না পরিশ্রমী ও উদ্যমী উঠতি বয়সী ২৫ জন কিশোর। ঘাগটিয়া গণগ্রন্থাগারটি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন ঘাগটিয়া (চক বাজার) এলাকায় অবস্থিত।
জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন ঘাগটিয়া (চক বাজার) গ্রামে ২৫ জন পরিশ্রমী ও উদীয়মান কিশোরদের আগ্রহ ও তাদের কাজ দেখে ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ডা. তোয়াজ আলী ঘাগটিয়া চক বাজারে তার এক শতক জায়গা লাইব্রেরির জন্য দান করেন। কিন্তু ঘর তোলার সামর্থ্য নেই ওই কিশোরদের। তারা ভাড়ায় একটি ঘর নিয়ে ঘাগটিয়া গণগ্রন্থাগারটি স্থাপন করে ঘাঘটিয়া বাজারে গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি বই দিয়ে আসছে। গত ৩ আগস্ট শুরুতে ৮০টি শিক্ষামূলক, দার্শনিক, গল্প, প্রবন্ধ, ঐতিহাসিক বইসহ বিভিন্ন রকমের বই সংগ্রহ করে সারিবদ্ধভাবে রাখেন লাইব্রেরিতে। এখন সবার সহযোগীতায় বই সংখ্যা তিন শতাধিক।
আর প্রতিদিন কম হলেও ৬০-৭০ জন স্থানীয় তরুণ-যুবক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, বইপ্রেমী ও এলাকাবাসী পড়তে আসছেন লাইব্রেরিতে। বিকাল ৩-৮টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেও প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে পাঠকদের চাহিদার জন্য। কিন্তু জায়গা সংকটে হিমসিম খাচ্ছে। অনেকেই আবার লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে পড়ছেন। দিন দিন বাড়ছে পাঠক সংখ্যা। আর এই কাজটিতে সহায়তা ও উৎসাহিত করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কিন্তু অর্থ সংকটে পড়েছে পরিশ্রমী ও কিশোরদের এই মহৎ উদ্যোগটি।
লাইব্রেরিতে পড়তে আসা বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রানা আহমেদ জানান, আগে অনেক বইয়ের নাম শুনতাম কিন্তু পড়তে পারতাম না। এখন সেই বইগুলো পড়ছি ভালো লাগে আর সময়টাও ভালো কাটে। এখানে লাইব্রেরি স্থাপনের পর এখানে এসে নাম না জানা অনেক বই পড়ছি। অল্প দিনে সবার মধ্যে সাড়া ফেলেছে কিশোরদের উদ্যোগে তৈরি গ্রন্থাগার ও তাদের র্কাযক্রম। কিন্তু জায়গা থাকলেও ঘর তুলতে পারছে না আর এখন আগত বইপ্রেমীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে।
ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিক মিয়া জানান, তরুণ সমাজ শুধু মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু কিছু উদ্যমী কিশোর আমাদের গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বই দিয়ে পড়ার জন্য বলছে। আমাকেও একটি বই দিয়েছে পড়ার জন্য। এই কাজটি খুবই ভালো। নিজস্ব একটি ঘর তৈরি করতে সবাই সহযোগিতার হাত বাড়ালে কিশোরদের উদ্যোগটি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
স্থানীয় এক মাদ্রাসার শিক্ষক শামিম আহমেদ বলেন, কিশোররা সময় উপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাদের এই কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে ও সমাজের সবার মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে বিত্তশালীদের পাশাপাশি সরকারি সহায়তায় পেলে গণগ্রন্থাগারটি আলোর মুখ দেখবে।
ঘাগটিয়া গণগ্রন্ত্রাগারে আহ্বায়ক অমিয় হাসান জানান, আমাদের একটাই উদ্দেশ্যে এলাকায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে চাই। গ্রন্থাগারে পাঠক সংখ্যা ৭ শতাধিক। কিন্তু প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুযায়ী পাঠকদের বই দিতে পারছি না। আমাদের জায়গা আছে কিন্তু ঘর নেই। আমাদের সামর্থ্য নেই যে ঘর তৈরি আর বই ক্রয় করব। এই বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে নিজস্ব ঘর তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বই ক্রয়ও করতে পারব। এতে করে বই প্রেমীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।
আপনার মন্তব্য