বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

২৪ অক্টোবর, ২০১৫ ১৬:০১

শেওলা শুল্ক স্টেশনে জটিলতা নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান

বিয়ানীবাজারের শেওলা শুল্কস্টেশনে প্রশাসনিক জটিলতার নিরসনে গতকাল শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রীর সাথে দেখা করে ব্যরসায়ীরা শুল্ক স্টেশনে প্রশাসনিক বিড়ম্বনা লাঘব এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ওজন পরিমাপ সম্পন্ন করার দাবি জানান। এ সময় মন্ত্রীর কাছে ব্যবসায়ীরা একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গত অর্থ বছরে আমদানি খ্যাতে এ শুল্ক স্টেশন মাত্র ৯৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে। যা এর আগের অর্থ বছরের চেয়ে ২৮ কোটি টাকা কম। 

প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কয়লা ব্যবসায়ীরা। গত দুই দিনে ব্যবসায়ীরা শিক্ষামন্ত্রীর সাথে দুই দফা বৈঠকও করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও সিলেটের কয়লা ব্যবসায়ীরা উপজেলা সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। মৌসুমের শুরুতে (নভেম্বর মাস) আমদানিকৃত কয়লা দ্রুত সময়ের মধ্যে খালাসের ব্যবস্থা করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামরা করেন শতাধিক ব্যবসায়ী।

কয়লা ব্যবসায়ী ইকবাল এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী জাহেদ ইকবাল বলেন, বিজিবি কয়লা পরিমাপ করার কারণে গত বছর চাহিদার ১০ ভাগ কয়লা আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এবার একই জটিলতা দেখা দিয়ে চাহিদা মতো কয়লা আমদানি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে এ ব্যবসার শতাধিক এবং সব মিলিয়ে কয়েক লাখ শ্রমিক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবেন। তিনি বলেন, কয়লা আমদানি কম হওয়ায় শেওলা শুল্ক স্টেশন গত বছর আমদানি থেকে রাজস্ব আয় করেছে মাত্র ৯৯ লাখ টাকা। যা এ যাবত কালের সর্বনিম্ন রাজস্ব আয়। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে আমদানি থেকে রাজস্ব আয় ছিলো ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫২২ টাকা। যা গত বছরের চেয়ে ২৮ কোটি টাকা বেশী।

ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, ভারতের সুতারকান্দি শুল্কস্টেশনে পণ্য পরিমাপ হয় পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে। তাদেও ছাড়পত্রের সাথে সামঞ্জস্য করে কাস্টম কর্তৃপক্ষ মাল খালাসের অনুমতি দেন। গত বছর (২০১৪-১৫) কাস্টমের পাশাপাশি বিজিবির দায়িত্বশীলরা কয়লা পরিমাপ করতের শুরু করেন। কিন্তু ওজন মাপার যন্ত্র না থাকায় ৫মিনিটের কাজ করতে সময় ব্যয় হয় এক ঘন্টা। এতে যেখানে প্রতিদিন ২০০ ট্রাক কয়লা খালাস হতো সেখানে গত বছর সারা দিনে মাত্র ৮/১০ ট্রাক কয়লা খালাস হতো।

ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন বলেন, পণ্য খালাস না হলে প্রতিটি ট্রাকের ডেমারেইজ (ট্রাকের প্রতি দিনের ভাড়া) আমাদের পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে চাহিদা মতো কয়লা আমদানি করতে না পেরে যেমন ক্ষতির সম্মুখিন হই, তার উপর ডেমারেইজও দিতে হয়। এসব বিষয়গুলো শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে আমরা উল্লেখ করেছি।

শেওলা শুল্ক স্টেশন এবং স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে আমদানি খাতে শেওলা শুল্ক স্টেশন ৯৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকা রাজস্ব আয় করেছে। একই সময় রপ্তানি খাতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫৭ কোটি ৫৬ লাখ ৩২ হাজার ৩৪৮ টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে আমদানিতে ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫২২ টাকা এবং ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ২৬ কোটি ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৫৬০ টাকা রাজস্ব আয় করে। এই দুই অর্থ বছরে রপ্তানিতে রাজস্ব আয় ছিলো ৯৬ কোটি টাকার বেশী।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল কয়লা ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, কয়লা আমদানির সাথে রাজস্ব আয়ের বিষয়টি জড়িত রয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের ওয়েগ্ন ব্রিজ (ওজন পরিমাপ যন্ত্র) নেই। তার কিছুটা বিড়ম্বনা হয়। ওজনের এ বিষয়গুলো দেখার কথা কাস্টম কর্তৃপক্ষের, কিন্তু বিজিবি কেন হস্তক্ষেপ করছে সেটা বুঝতে পারছি না। বিড়ম্বনা তৈরী হলে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত