সিলেটটুডে ডেস্ক

২৯ অক্টোবর, ২০১৫ ২০:৩৬

‘প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে সংস্কৃতির শক্তি জাগাবে উদীচী’

‘মরণের পাল তুলে জীবন তো আসবেই, ভয় নেই’- এই স্লোগানকে উপজীব্য করে  সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী‘র বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে।

দিনব্যাপী উদযাপিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শোভাযাত্রা, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ বলেছেন “সকল প্রকার প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে সংস্কৃতির শক্তি নিয়ে জেগে উঠতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব একটা ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সকল প্রকার অন্ধত্ব ও গুড়ামির বিরুদ্ধে উদীচী নিরন্তর তার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।”


তিরি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সব সময় ওৎ পেতে বসে আছে। তারা সমাজ-সভ্যতার পিঠে ছুরি চালাতে চায়। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীকে একজোট হয়ে দাঁড়াতে হবে।

ড. সফিউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে মেহনতি মানুষের লড়াই-সংগ্রাম ও বাঙালি সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশে উদীচীর গৌরবোজ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন “যে সংস্কৃতি সামনে যাওয়ার পথ দেখায়, উদীচী সেই সংস্কৃতির চর্চা করে। কৃষক-শ্রমিক মেহনতিরাই হচ্ছে আমাদের সভ্যতা নির্মাতা। তাঁদের কল্যাণেই আমরা বেঁচে-বর্তে আছি। সুতরাং তাদের কথা যারা বলছে, সেই উদীচী এগিয়ে যাবেই।

২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদীচী, সিলেট-এর সভাপতি কবি এ.কে.শেরাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশ আলী এবং গণসংগীত শিল্পী ও উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম। এর আগে বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উদীচী সিলেট এর প্রথম আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য।

আলোচনাসভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক বাদল কর। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সদস্য সচিব সৈয়দ মনির হেলাল এডভোকেট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের নেতা ধীরেণ সিংহ, সাংবাদিক সুকেশ চন্দ্র দেব, সিপিবি নেতা ডা. বীরেন্দ্র  চন্দ্র দেব, কবি পুলিন রায়, ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা সিকন্দর আলী, সংস্কৃতিকর্মী মিশফাক আহমদ মিশু, সম্মিলিত নাট্যপরিষদ সিলেট এর সহসভাপতি খোয়াজ রহিম সবুজ, উদীচী সিলেট এর উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবিত্রি সেন, সিপিবি সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সুমন এডভোকেট, বাসদ নেতা আবু জাফর, সম্মিলিত নাট্যপরিষদ, সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, ছাত্রইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি শহিদুজ্জামান পাপলু, আদিবাসী নেতা ক্ষীর সিং, গনতন্ত্রী পার্টি নেতা জুনেদুর রহমান চৌধুরী প্রমূখ।

বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশ আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, উদীচী একটি রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাস করে। অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশে নির্মাণে উদীচী তার লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। একটি প্রগতিশীল দেশ ও সমাজ বিনির্মাণে উদীচী কর্মীদেরই অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে-বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।”

বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম বলেন “জঙ্গীবাদ আমাদের সকল অর্জনকে আজ ধ্বংস করে দিচ্ছে। আর এই জঙ্গীবাদের পেছনে রয়েছে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ। তাই উদীচী নিরন্তরভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।”

এর আগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করবে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

সন্ধ্যা ৫-৩০ টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে আবৃত্তি পরিবেশন করে মৃত্তিকায় মহাকাল, অমিতাভ চক্রবর্তী ললিতকলা বিদ্যালয় পরিবেশন করে নৃত্য, উদীচী, লাক্কাতুরা চাবাগান শাখা গণসংগীত ও নৃত্য এবং উদীচী, সিলেট পরিবেশন করে গণসংগীত ও নাটক ‘ঘামের ফোটায় আগুন’।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সুদৃশ্য প্রকাশনা ‘পিলসুজ’ প্রকাশিত হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত