বড়লেখা প্রতিনিধি:

১৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:৫৭

বড়লেখায় ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর ছুরি নিয়ে হামলা, সংঘর্ষে আহত ১৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার মিছিলকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেনের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা হয়েছে।

এর জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বড়লেখা থানায় একটি মামলা করে।

পুলিশ বড়লেখা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম (ফরহাদ) ও তার সহযোগী রেহান আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে। তৌহিদুল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের (সুন্দর) ভাতিজা।

রফিকুল ইসলামের আরেক ভাতিজা উপজেলা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরাফাতুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল রাত সাড়ে সাতটার দিকে পৌরসভার পাখিয়ালা এলাকায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে রাত আটটার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন ইমরান হোসেনের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করে। এতে তার হাত কেটে যায়। হামলার খবর জানাজানি হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখিয়ালা এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ২৪টি ফাঁকা গুলি করে।

সংঘর্ষে বড়লেখা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামাদ আহমদসহ উভয় পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ছাড়া আহত হন পুলিশের পাঁচ সদস্য।

এদিকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন গতকাল রাত সাড়ে ১১টা থেকে আজ বুধবার বেলা ২টা পর্যন্ত বড়লেখা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও বড়লেখা সরকারি কলেজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন আজ বুধবার বলেন, ‘আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে রফিকুল ইসলামের কয়েকজন ভাতিজা আমাদের পথ আগলে বলেন, “পাখিয়ালা এলাকায় নৌকার মিছিল দিতে হলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে দিতে হবে।” এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁরা আমার ওপর চড়াও হন। ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। আমার হাত কেটে যায়।’

রফিকুল ইসলামের আরেক ভাতিজা উপজেলা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরাফাতুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাননি এরকম কিছু কর্মী ছাত্রলীগ সভাপতিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেনো তারা কমিটিতে স্থান পাননি। এই সময় ছাত্রলীগ সভাপতি কর্মীদের সাথে রাগারাগি করলে কর্মীরা তার উপর (সভাপতি) ক্ষোভ জাড়েন। ভিড়ের মধ্যে কে ছুরিকাঘাত করেছে কেউ বলতে পারছে না। কিন্তু তারা অদৃশ্য কারণে আমাদের উপর দোষ চাপিয়েছেন।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটির বিরোধ নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী মিছিল নিয়ে কিছু হয়নি। আমি তখন নির্বাচনী কাজে ছিলাম।’

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত