মোসাইদ রাহাত, সুনামগঞ্জ

২০ ফেব্রুয়ারি , ২০২১ ২৩:৩৪

সুনামগঞ্জে “অপ্রাকৃত প্রকৃতি” শিল্পকর্মে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

হাওর-বাওর ও সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত সুনামগঞ্জের একদল চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে সুনামগঞ্জে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘‘অপ্রাকৃত প্রকৃত” শিরোনামে দলীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। হাওরাঞ্চলে মানুষজনের মধ্যে চিত্রশিল্প ও শিল্পকর্মগুলো ফুটিয়ে তুলতেই সুনামগঞ্জের প্রবীণ-নবীনদের অংশগ্রহণে এবারই প্রথম এই প্রদশর্নী হচ্ছে।

এক জেলার ২০ জনের অংশগ্রহণে প্রদশর্নীর এমন আয়োজন মুগ্ধ করেছে সুনামগঞ্জের মানুষজনদের। তবে সুনামগঞ্জের মতো জেলায় এমন আয়োজন বিরল হওয়ায় এরকম আয়োজন প্রতিনিয়ত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এগুলোর চর্চায় মনোযোগী হবে বলে ধারণা আয়োজক ও প্রদর্শনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের।

প্রায় ১০০ ছবিতে সুনামগঞ্জসহ চিত্রশিল্পে বিভিন্ন প্রকৃতি, বড় বড় ব্যক্তি ও সমসাময়িক ঘটনাগুলো ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন আয়োজকরা।

অন্যদিকে দর্শনার্থীরা সাড়া দেওয়ায় এই প্রদর্শনী আরও কয়েকদিন স্থায়ী হবে বলে জানান, দলীয় শিল্পকর্ম প্রদশর্নীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সুনামগঞ্জের সন্তান শুভ্র তালুকদার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এ দলীয় শিল্পকর্ম প্রদশর্নীতে সুনামগঞ্জে প্রবীণ ও খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী সুনিল সুকশা, যার জন্ম সুনামগঞ্জে তিনি আমাদের এ দলীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনে অংশগ্রহণ করেছেন যেটি আমাদের জন্য গর্বের। এছাড়াও খ্যতিমান সুনামগঞ্জের চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে এমন আয়োজন এ জেলায় প্রথম। আমরা দর্শনার্থীদের সাড়া পাচ্ছি প্রথমে তিনদিন করার থাকলেও এখন দর্শনার্থীদের সাড়া পাওয়ায় আরও কয়েকদিন চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাওর এলাকা সুনামগঞ্জ এখানে অনেক কবি সাধকের জন্ম প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য্য রয়েছে এখানে, তবে চিত্রশিল্প প্রদশর্নী বা এরকম আয়োজন খুবই কম। তিনবছর পর হয়তো সুনামগঞ্জে আমরা এমন আয়োজন করলাম তবে সেখানে ভিন্নতা একটিই সুনামগঞ্জের ২০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে এটি দলীয় প্রদশর্নী অনুষ্ঠান।’

প্রদশর্নী ঘুরতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন্দিনী প্রাচী বলেন, ‘এখানে এসে সত্যি ভালো লেগেছে, এখানে এমন আয়োজন হয় না বললেই চলে সেজন্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিল্পকর্মগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাচ্ছে, শিল্পকলা একাডেমি এবং সকল সংস্কৃতিক সংগঠনের উচিত এদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া যাতে এমন চর্চার বিকাশ ঘটে।’

শহরের পূর্ব নতুনপাড়ার বাসিন্দা অনঞ্জু রানী দে বলেন, ‘এমন প্রদশর্নীতে আমি প্রথবার এসেছি ছেলেকে নিয়ে। খুব সুন্দর লাগছে মনটা ফ্রেশ হচ্ছে ছেলেটাও খুশি হচ্ছে, এমন আয়োজন আরও করা হলেও মানুষজন এ সৌন্দর্য্যগুলো উপভোগ করতে পারবে।’

করোনাকালে ঘরে বসেই অনেক শিল্পকর্মে মনোনিবেশ ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইন ডিপার্টমেন্টের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও সুনামগঞ্জের সন্তান ইরতিজা কাগজী বলেন, ‘এমন প্রদশর্নীর আয়োজন আমরা করোনাকালে ঘরে বসেই পরিকল্পনা করে করেছি এবং সত্যি বলতে করোনার সময় আমরা ঘরে থাকায় শিল্পকর্মগুলোর বেশি মনোযোগ দিতে পেরেছি। আমি এ প্রদশর্নীতে করোনাকালে ঘরে করা শিল্পকর্মগুলোও নিয়ে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুনামগঞ্জে যে এতো গুণী চিত্রশিল্পীরা রয়েছেন সেটি এই প্রদশর্নীর আয়োজন না করলে হয়তো আমার জানা হতো না। এদিকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে হাওরখ্যাত সুনামগঞ্জ জেলা। শিল্পকর্ম চর্চা বৃদ্ধিতে এগুলোর প্রতি মানুষকে জানাতে হলে এমন আয়োজন প্রতিনিয়ত করা প্রয়োজন। না হলেও একটা প্রজন্ম এগুলোর সম্পর্কে কোনো ধারণাই পাবে না। তাই প্রশাসনসহ সবাইকে এদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

সুনামগঞ্জে এ দলীয় শিল্পকর্ম প্রদশর্নীতে অংশগ্রহণ করেছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী সুনিল সুকলা, হ্যারল্ড রশীদ, দ্বীপ নারায়ণ চৌধুরী, রুণা লেইস, শুভ রায়, তারেক আমিন, জয়ন্ত কুমার তালুকদার, রতনাস্বর সূত্রধর, মৃনাল বণিক, অরুণ অদিত্য চক্রবর্তী, শুভ তালুকদার, সামিও রয় অমিত, ইজরিতা কাগজী, তাফান্নুম কাগজী, জয় তালুকদার, ঋতুরূপা তালুকদার সাথী, ইমরান হোসেন মাছুম, অয়ন চৌধুরী, কারিশমা দেবি মনি ও প্রান্ত চন্দ্র।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত