২৬ আগস্ট, ২০২১ ১৯:৩৯
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের দিরাই রাস্তা মদনপুর নামক স্থানে রেল স্টেশন স্থাপনের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঝড় তুলেছেন দিরাই শাল্লাসহ হাওর এলাকার মানুষ। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি এলাকার বিশিষ্টজনরাও এ দাবির সাথে সহমত পোষণ করেছেন।
গোবিন্দগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে সমীক্ষার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। খবর প্রকাশের পর থেকেই দিরাই রাস্তা মদনপুরে স্টেশন স্থাপনের দাবিতে ফেসবুকে ঝড় তোলেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ। তাদের মধ্যে এলাকার বিশিষ্টজনসহ গণমাধ্যমকর্মীরাও রয়েছেন। স্টেশন স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সমাজ সেবক জামিল চৌধুরী তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘সিলেট সুনামগঞ্জ মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপন করা হচ্ছে, দিরাই শাল্লা অঞ্চলের জনগণের সুবিধার্থে, মদনপুর জামালগঞ্জ দিরাই রাস্তার তেমুখিতে, একটি স্টেশন করার প্রস্তাব করছি, আমাদের এলাকাবাসীকে বঞ্চিত করে,রেলপথ স্থাপন করা যাবে না ইনশাআল্লাহ, আমরণ অনশন করতে বাধ্য করবেন না।’
যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা শাহ কামাল ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘সুনামগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার, মানবিক মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সর্বাধিক বিবেচনায় দিরাই শাল্লা, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, তাহিরপুর, মদনপুর জংশনে রেলস্টেশন অত্যাবশ্যকীয়। মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়, ৬টি উপজেলার প্রয়োজন ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই।’
সোলজার ক্লাব দিরাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কালনী ভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকমের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ফায়সাল আহমাদ ফেসবুকে আইডিতে লিখেছেন, ‘হাওর পাড়ের শ্রমজীবী, কৃষিজীবী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে গোবিন্দগঞ্জ টু সুনামগঞ্জ রেল লাইনে দিরাই রাস্তা পয়েন্টে স্টেশন স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় হাওরাঞ্চলের মানুষ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’
দিরাই কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মান্না তালুকদার লিমন তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের মূল উদ্দেশ্য যাত্রী সেবার পাশাপাশি এ অঞ্চলের পণ্য পরিবহনের পথ সুগম করা। প্রস্তাবিত সমীক্ষায় গোবিন্দগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত যে পাঁচটি স্থানে স্টেশন নির্ধারণ করা হয়েছে তারমধ্যে মদনপুর (দিরাই রাস্তার মোড়ে) কোন স্টেশন রাখা হয়নি। দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, নেত্রকোনার কালিয়াজুড়ি উপজেলার লোকজন এই সড়কপথ ব্যবহার করে থাকেন। এই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর পণ্য পরিবহন ও রেলে ভ্রমণের পথ সুগম করতে ‘মদনপুর রেলওয়ে স্টেশন’ বাস্তবায়নের দাবী জানাই। নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, গোবিন্দগঞ্জ টু সুনামগঞ্জ রেললাইনের প্রস্তাবিত স্টপেজ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম স্টপজে (যদি স্থাপন হয়) রূপ নেবে দিরাই রাস্তার মোড়ের ‘মদনপুর রেলওয়ে স্টেশন’। আমরা দিরাই শাল্লার অধিকাংশ মানুষই মদনপুর দিরাইর রাস্তা মোর হয়ে শান্তিগঞ্জ হয়ে গোবিন্দগঞ্জ রেল লাইনের দাবি জানিয়েছি, কারণ এই দিকের অধিকাংশ মানুষ যাতে করে এই রেলের সেবাটা পায়, তাই দিরাই রাস্তা মোরে স্টপেজ টা অত্যন্ত জরুরি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার কাছে ও সুনামগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয় এর কাছে আকুল আবেদন এই বৃহৎ স্বার্থে দিরাইর রাস্তা মোরে স্টপেজ নির্ধারণ করুন।’
দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহ আলম ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘একটা_ ডিও_ লেটার_ হবে_কি_? দিরাই-শাল্লাসহ জামালগঞ্জ- তাহিরপুর-ধর্মপাশা- মধ্যনগর উপজেলার স্বার্থে দিরাই রাস্তার মোড়ে মদনপুর রেললাইনের স্টপেজ চাই। আমাদের দিরাই রাস্তার মোড়েও সর্বমহলের পক্ষ থেকে ষ্টেশন স্থাপনের দাবি জানাই।’
এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শত শত মানুষ ফেসবুকে, স্টেশন স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালে সিলেট থেকে শিল্প নগরী ছাতক পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। তবে অর্ধশত বছরের উপরে হলেও সুনামগঞ্জ জেলা শহর এখনো যুক্ত হয়নি রেল লাইনের সাথে।বাণিজ্যিক ও হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলপথের দাবি বহুদিনের। জেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এর প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে। রেললাইন সম্প্রসারণ সমীক্ষায় গোবিন্দগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত পাঁচটি স্টেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো সুনামগঞ্জ শহরের দক্ষিণ নতুন পাড়া, শান্তিগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে এবং কৈতক হাসপাতালের পাশে। যদিও গোবিন্দগঞ্জ – সুনামগঞ্জ রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি তুলেন দিরাই শাল্লাবাসী। অবশেষে রেলপথে যাতায়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত দিরাই-শাল্লা সহ হাওরাঞ্চলবাসী।
আপনার মন্তব্য