নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:৫০

আতিকের শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন হাবিব

সিলেট-৩ আসনে উপ নির্বাচন

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সিলেট-৩ আসনের উপ নির্বাচন। করোনার কারণে কয়েকদফা পিছিয়ে যাওয়ার পর গত ২৩ আগস্ট এই আসনের উপ নির্বাচনের নুতন তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই উত্তেজনা বাড়ছে নির্বাচনী এলাকায়। বাড়ছে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমাগম। আর প্রার্থীদের কথার লড়াইয়ে মিলছে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস।

এই উপ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (সদ্য বহিস্কৃত) ও সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। এছাড়া ডাব প্রতীকে প্রাতদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের নেতা জুনায়ের মুহাম্মদ মিয়া।

লকডাউন চলাকালে কিছদিন প্রচার প্রচারণা বন্ধ থাকলেও লকডাউন শেষে আবার প্রচারণায় নেমেছেন প্রধান তিন প্রার্থী। তবে জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়াকে তেমন প্রচার প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে প্রার্থীদের অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পাল্লাও আসছে। সুষ্ঠু নির্বচিন নিয়েই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান। ভোট চোরদের প্রতিহত করতে সাধারণ জনগন এবার কেন্দ্র পাহারা দেবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আতিকের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আতিকের অভিযোগকে অমূলক আখ্যায়িত করে হাবিব বলেন, এখন পর্যন্ত আতিকুর রহমান আতিক বা কোনো প্রার্থীর প্রচারণায় কেউ বাধা দেয়নি। তা বরং নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরপরও খামাখা অভিযোগ এনে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।

গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচনী সভা ও জনসংযোগকালে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন আতিকুর রহমান আতিক।
গত ২২ আগস্ট দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় সভায় আতিক বলেন, কোন অপকৌশলই লাঙ্গলের গণজোয়ার থামানো যাবে না। লাঙ্গলের পক্ষে এবার সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছে। হুমকি ধমকি মানুষ ভয় পায় না, ভোট চোরদের প্রতিহত করতে এবার কেন্দ্র্র পাহারা দেবেন সাধারণ জনগণ।

তিনি বলেন, মানুষ এবার দলমত ভুলে লাঙ্গলকে বিজয়ী করতে চায়। মানুষের এই গণজোয়ার ঠেকাতে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন তা কাজে আসবে না।

এরপর মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দক্ষিণ সুরমার দাউদপুরে আয়োজিত আরেকটি মতবিনিময় সভায় একই সুরে বক্তব্য দেন আতিক।

দাউদপুরে আতিক বলেন, লাঙলের জোয়ার দেরখ একটি মহল ভয় পেয়ে গেছে। তারা ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচনে জিততে চায়।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে আতিক বলেন, একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনুন। সামনে অনেকগুলো নির্বাচন আসছে। উপ নির্বাচন সুষ্টু হলে সেসব নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে উৎসাহ পাবে।
 
গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সভায় এমন শঙ্কা প্রকাশ করে করে আসছেন তিনি। এই শঙ্কার ব্যাপারে জানতে বুধবার একাধিকবার আতিকুর রহমান আতিকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

আতিকের ব্যক্তিগত সহকারী কবির আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আতিক নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। ফোনও তার কাছে নেই।

আতিকের এমন শঙ্কার ব্যাপারে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির একজন সহ-সভাপতি ও একজন সহ-সম্পাদকের সাথে আলাপ হয়। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীষ নেতারা প্রতিদিনই নির্বাচনী এলাকায় এসে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেবল আ্ওয়ামী লীগের নয়, দলটির অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতারাও প্রতিদিন আসছেন। একটি উপ নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন তৎপরতা আগে কখনো দেখা যায়নি। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এই উপ নির্বাচনে যে কোনো মূল্যে জয়ী হতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। এছাড়া অতীতের নির্বাচনগুলোও এমন শঙ্কা জাগাচ্ছে।  

উচ্চ আদালতের আদেশে ভোট স্থগিত হওয়ার আগে গত ২৫ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেও এমন অভিযোগ করেছিলেন আতিক।  সংবাদ সম্মেলনে প্রচারে বাধা ও নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেন তিনি।

সেদিন তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশ প্রচারে বাধা দিচ্ছে, ভয় দেখানোর পাশাপাশি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে।

তবে এমন শঙ্কা অমূলক দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমরাও একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নৌকার পক্ষে জনমত দেখে আতিক খামাখা কেবল অভিযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি জনগনের সাথে নেই। কেবল অভিযোগ করায় আছেন।

প্রসঙ্গত, করোনা আক্রান্ত হয়ে এ বছরের ১১ মার্চ সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যু হয়। এরপর ১৫ মার্চ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর ৯০ দিন পেছালেও ২৮ জুলাই ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত