০১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২২:৪২
সিলেট মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। শহীদ জিয়া দেশপ্রেমিক জনতার হৃদয়ে চির অম্লান ব্যক্তিত্ব। আজকে কতিপয় জ্ঞানপাপী কথায় কথায় জিয়াউর রহমানকে তাচ্ছিল্য করে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার শহীদ জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলে তাদের দেশপ্রেম নিয়ে জাতি সন্দিহান। যারা শহীদ জিয়াকে নিয়ে সমালোচনা করে তারা কেউই জিয়ার মতো করে জাতিকে নিয়ে চিন্তা করেনি, বরং জাতির বিপদে আত্মগোপন করেছিল। দেশের রেমিটেন্স ও গার্মেন্টস শিল্প শহীদ জিয়ার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করেছিল। আওয়ামীলীগের কতিপয় শীর্ষনেতা সারাদিন বিএনপির দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন। কিন্তু তারা এই বিএনপিকে এতো বেশী ভয় পায় যে, রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে বিএনপিকে দমন-পীড়ন করা এবং নির্বাচনের আগের রাত্রে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ব্যালট বাক্স ভরা ছাড়া তারা কিছুই করতে পারেনি। এমন দল ও সরকারের মুখে বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা শোভা পায় না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ জিয়া আত্মপরিচয়হীন জাতিকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নামে একটি জাতীয় পরিচয় দিয়েছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধের সুফল জাতির দোরগোড়ায় পৌছে দিতে চেয়েছিলেন। শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে বহাল রাখার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু বাকশালের প্রেতাত্মারা পুনরায় বাকশালের দিকে ফিরে যাচ্ছে। এ থেকে জাতিকে রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে। এই ফ্যাসিস্ট সরকার জননেতা এম ইলিয়াস আলী সহ শতশত মানুষকে গুম করে রেখেছে। গণতন্ত্র হত্যাকারী সরকারের হাতে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়। বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় ও তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিতে হবে।
বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় ভাতালিয়াস্থ নগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, জিয়াউল গনি আরেফিন জিল্লুর, কাউন্সিলার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জিয়াউল হক জিয়া, আব্দুর রহিম ও আমির হোসেন, উপদেষ্টা সাব্বির আহমদ ও আব্দুস সালাম বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতিকুর রহমান সাবু, হুমায়ুন আহমদ মাসুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল আহমদ মোর্শেদ, মাহবুব চৌধুরী, দফতর সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম আলো, প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, যুব বিষয়ক সম্পাদক মির্জা বেলায়েত আহমদ লিটন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ, পরিবার কল্যান সম্পাদক লল্লিক আহমদ চৌধুরী, আপ্যায়ন সম্পাদক আফজাল উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল মিয়া, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস মিয়া, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা নিগার সুলতানা ডেইজী, মহানগর বিএনপির মানবাধিকার সম্পাদক মুফতি নেহাল উদ্দিন, সমবায় সম্পাদক মামুনুর রহমান মামুন, ক্ষুদ্র ঋণ সম্পাদক আজমল হোসেন, শিশু বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, সমাজসেবা সম্পাদক আবুল কাহের চৌধুরী, সহ-দফতর সম্পাদক লোকমান আহমদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান খসরু, সহ-অর্থ সম্পাদক শেখ মো: ইলিয়াস আলী, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক কয়েস আহমদ সাগর ও সেলিম আহমদ রনি, সহ-যোগাযোগ সম্পাদক উজ্জল রঞ্জন চন্দ, সহ-সমাজ সেবা সম্পাদক মফিজুর রহমান জুবেদ, সহ-পরিবেশ সম্পাদক মঞ্জুর হুসেন মঞ্জু, সহ-শিল্প সম্পাদক নজির হোসেন, সহ বাণিজ্য সম্পাদক আব্দুস সাত্তার আমীন, বিএনপি নেতা মোতাহির আলী মাখন, কামাল হাসান জুয়েল, দেলোয়ার হোসেন রানা, ময়নুল হক স্বাধীন, এম মখলিছ খান, সাব্বির আহমদ, সেলিম আহমদ রনি, সেলিম আহমদ মাহমুদ, রফিকুল ইসলাম রফিক, মাহবুব আহমদ চৌধুরী, সুহেল আহমদ, রাজিব কুমার দে, ফজলুল হক, সুফিয়ান আহমদ, নাসির উদ্দিন রব, কাজী মেরাজ, দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকির, মাসুদ আহমদ মিন্টু, যুবদল নেতা লুৎফুর রহমান, রুম্মান আহমদ, মুজিবুর রহমান তানিম, মোজাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, মির্জা স¤্রাট, ওসমান গণি, জয়নুল আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জামাল আহমদ খান, জুবেদ আমিরী, মেহেদী হাসন সপু, দুলাল আহমদ, মামুন আহমদ, সিরাজ খান, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক তানিয়া রহমান, প্রচার সম্পাদক হাফসা খান, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ইসলাম, তাছনিম রহমান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সদরুল ইসলাম লোকমান, আবুল মুতাকাব্বির চৌধুরী সাব্বিহ, আজহার আলী অনিক, রফিকুজ্জামান রফিক, ইকবাল হোসেন লিটন, মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোক্তার আহমদ, মহানগর ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কাউসার আহমেদ, ছাত্রদল নেতা মোতালিব পাশা, আকাশ আহমেদ খান, প্রমূখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত করেন মহানগর বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: আশরাফ আলী।
সভাপতির বক্তব্যে নাসিম হোসাইন বলেন, আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান সহ কতিপয় শীর্ষ নেতা উঠতে বসতে শহীদ জিয়ার সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তারা এখন ১৫ আগষ্টের সাথে জিয়াকে জড়িয়ে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তারা জানেনা শহীদ জিয়া সম্পর্কে আওয়ামীলীগের কোন লোকের কথা দেশের কোন মানুষ বিশ্বাস করে না। জিয়া ও বিএনপি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের সাথে মিশে একাকার হয়ে আছে। জিয়ার নাম মুছে ফেলার সাধ্য কারো নাই। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দলকে পূনর্গঠন কনে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলাই হোক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গিকার। শহীদ জিয়ার পরিবার ও বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করে আওয়ামীলীগ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে যাচ্ছে।
আপনার মন্তব্য