০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:২৭
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায়ি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত হওয়া সিলেট-৩ আসনের উপ নির্বাচন আজ শনিবার। সিলেটের বালাগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আজ সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে।
এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। তবে মোটরগাড়ি প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি এখানে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলটির জেলা কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। এই তিনজন ছাড়াও ডাব প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া।
এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি। সবগুঅে কেন্দ্রেই ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।
গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ২৮ জুলাই আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। তবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ আদালত নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেন।
নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালেই। প্রার্থী হলেও তেমন প্রচারে ছিলেন জুনায়েদ মোহ্ম¥দ মিয়া। তবে অন্য তিন প্রার্থীই জোরেসোরে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনজনই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সিলেট-৩ আসন এক সময় জাতীয় পার্টির ঘাটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। এই আসনে তিনবার সাংসদ হন জাতীয় পার্টির মুকিত খান। ২০০১ সালের নির্বাচনে এখানে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হন ধানের শীষ প্রতীকের শফি আহমদ চৌধুরী। এরপরের তিনটি নির্বাচনেই বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।
এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় শফি আহমদ চৌধুরীকে নির্বাচন করতে হচ্ছে পুরোটাই ব্যক্তি ইমেজের উপর। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
হাবিবের পক্ষে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পক্ষে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা এসেও প্রচারে অংশ নিয়েছেন।
তবে দলীয় কর্মীদের বাইরে নীরব ভোটাররাই নির্বাচনে ব্যবধান গড়ে দেবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নীরব ভোটারদের যিনি পক্ষে নিয়ে আসতে পারবেন ও ভোটকেন্দ্রে আনতে পারবেন তার এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
এদিকে, সুষ্ঠূ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনও। সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ভোটারদের মধ্যেও উসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কোথাও কোনো ভয়ভীতির পরিবেশ নেই।
আপনার মন্তব্য